নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেজুর গাছ প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ; এমন অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সজাগ দৃষ্টি কামনা করেছেন অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কর্মী সমর্থকরা।
একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের একাধিক কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের লক্ষে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ইশারায় ইতিমধ্যেই গোপন বৈঠক করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের একাধিক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মধ্যে তিন ব্যক্তির নাম পরিচয় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকায় কাশিপুরের শহিদ ওরফে ডাকাত শহিদ, স্থানীয় বিএনপির বিতর্কিত নেতা ও চাঁদাবাজীর অভিযোগে অভিযুক্ত ইকবাল ওরফে খোপা ইকবাল এবং চিহ্নিত মাদক কারবারি লাভলুর নাম ইতিমধ্যেই খবরের কাগজে উঠে এসেছে।
সূত্রের দেয়া তথ্য মতে, কাশিপুর খিল মার্কেট গোয়ালবন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ১২ হাজার ভোটার রয়েছে। একই ইউনিয়নের হাটখোলা জুনিয়র হাইস্কুলে ৭ হাজার ৯০০, দারুস সালাত আলিয়া মাদ্রাসায় ১১ হাজার এবং হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে ১২ হাজার ৭শত ভোটার।
খেজুর গাছ প্রতিকের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর পক্ষে এসকল ভোট কেন্দ্রগুলো দখল ও অযাচিত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের দমিয়ে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে ওই সন্ত্রাসী চক্রটি। আসনটির একাধিক প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এমন অভিযোগ জানিয়েছেন।শান্তিপূর্ন ভোটগ্রহন ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও প্রভাব বিস্তারকারীদের প্রতি আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ নজরদারীতে রাখার আহবান জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন করতে আগে থেকেই গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ন ভোট কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারী রয়েছে। ভোট কেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে এর পরিনাম ভয়াবহ হবে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, তেলচোর, মাদক ব্যবসায়ী এসব অপরাধীরা এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর সহযোগি। এসব অপরাধীদের নিয়ে মনির কাসেমী ভোট চাইছেন। অভিযোগগুলো তুলছেন তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বিরা। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও শাপলা কলির এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ দুইজন গত কয়েকদিন ধরেই কাসেমীর বিরুদ্ধে লাগাতার এসব অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। আবার কোন কোন প্রাথী বলছেন আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে চলছেন মনির কাসেমী।
তবে কারা সেই অপরাধী। কেউ নাম প্রকাশ করছেন না। কিন্তু আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। গত কয়েকদিনে কাসেমীর প্রচারণায় যাদের দেখা গেছে তাদের অনেকের নামে আবার বিতর্ক আছে। তবে যেহেতু কাসেমী নাম বলেনি সেহেতু তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ তোলা নিয়েও আছে সংশয়।
একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের পাশে রাখার কারণে অনেক বিএনপির তৃণমূল চরম বিরক্ত। তারা মনে করছেন কাসেমী এমপি হলে অপরাধীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়াবেন।
কাসেমীর পাশে দেখা গেছে বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী শহীদকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহীদ কাশিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটবালু ব্যবসা, ড্রেজার কার্যক্রম ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকান্ড পরিচালনায় তার আলাদা ক্যাডার বাহিনী রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে দেখা গেছে গিরিধারার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুকে। বিতর্কিত ওই ব্যক্তির নাম শাহাদাত চৌধুরী ওরফে শাহাদাত পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে তিনি কারাভোগও করেছেন। কাসেমীকে ঘিরে রাখেন ফেরদাউসুর রহমান। তিনি শামীম ওসমানের অতি ঘনিষ্ঠ সেটা প্রকাশ্য। নিয়মিত শামীম ওসমানের সঙ্গে তিনি দেখা করতেন। শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার শাহ নিজামের নম পার্কের ডেরাতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।
কাসেমীর পাশে দেখা গেছে শহরের চিহ্নিত অস্ত্রবাজ রাসেলকে। গত বছর শহরে প্রকাশ্য গুলি ছুড়েছিল এ সন্ত্রাসী।
সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ১৭ জন ও নারী ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন। এসব জনগণও এবার সরব। তারা ১২ ফেব্রুয়ারী এসব দুস্কৃতিকারীদের লাল কার্ড দেখাতে চায়।
‘আলেম হয়ে জালেমের সঙ্গে কিভাবে সম্পর্ক হয়’ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসেন কাশেমীকে উদ্দেশ্য করে এমনই প্রশ্ন করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাশেমীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখানে যারা প্রার্থী হয়েছেন এর মধ্যে একজন জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সম্মানিত আলেম। আলেম ওলামাকে অনেক সম্মান করি এবং তারাও আমাকে অনেক ভালোবাসে। সেজন্য আমি ধর্মকর্ম ঠিকমতোন করার চেষ্টা করি এবং ওনাদের সবসময় সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অধিকাংশই তাকে পছন্দ করেন না। সে বলেছিল, যদি আমি ধানের শীষ প্রতীক না পাই তাহলে আমি নির্বাচন করবো না। তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন ধানের প্রতীক নেওয়ার জন্য। আইন তা হতে দেয় নি। এরপর সে চেষ্টা করেছিল বিএনপি নেতাদের ধরে নিজের দল থেকে সরে গিয়ে, রিজাইন করে ধানের শীষ নেওয়ার জন্য। দল বলেছে সেটা হবে না। নিরুপায় হয়ে তিনি এখন খেজুরগাছ তার দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাহলে তিনি তার ওয়াদা বরখেলাপ করেছেন। একজন আলেম হয়ে যদি ক্ষমতার জন্য তার জবার নষ্ট করতে হয় আমি তাহলে তার বিষয়ে আর কিছু বলবো না। দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনী এলাকার সন্ত্রাসী, সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ, সব চাইতে বেশি নেশার সঙ্গে জড়িত, জমি দখলকারী, শিল্পকলকারখানা ব্যবসা দখলকারী, ভূমি দস্যু, তেলচোর এদের নিয়ে তার প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাহলে সে যদি নির্বাচিত হয় তার আশেপাশে ভূমিদস্যুরা, চোরেরা নিশ্চয়ই তার শক্তি ব্যয় করে এই এলাকায় একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করবে। তার আশেপাশে যারা আছেন যাদের মানুষ ভয় পায় তাদের কাছে তো মানুষ জিম্মী হয়ে যাবে। আলেম হয়ে জালেমের সাথে কিভাবে সম্পর্ক হয়? আলেমের সঙ্গে যদি আরও ১০জন আলেম থাকতো তাহলে না হয় মানুষ বিবেচনা করে দেখতো এই স্বর্ণলতা কিংবা বসন্তের কোকিলকে ভোট দেওয়া যায় কিনা। সেজন্য সারা ফতুল্লাবাসী তাকে প্রত্যাখান করেছে। আমরা যারা প্রার্থী হয়েছি আমাদের মধ্যে কনটেস্ট হবে। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো কনটেস্ট নাই। বিএনপির জন্য সে পরগাছা।’






