নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটের ময়দানে হাতি
নারায়ণগঞ্জে ‘কিং মেকার’ এর “হেভিওয়েট” এন্ট্রি

হাতি যেমন বনের সবচেয়ে বৃহদাকার ও হেভিওয়েট প্রাণী, ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীও একজন পরীক্ষিত হেভিওয়েট নাম। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে কিছু নাম আছে, যাদের উপস্থিতিতেই সমীকরণ বদলে যায়। ভোটের অঙ্ক নতুন করে কষতে হয়, হিসাব-নিকাশ উল্টে যায়, আর মাঠের হাওয়া ঘুরে যায় মুহূর্তেই। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী তেমনই একটি নাম—যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থী নির্ধারণ করেন, জয়ের রাস্তা তৈরি করেন, প্রয়োজন হলে পুরো ভোটের দৃশ্যপট উল্টে দেন। সেই ‘কিং মেকার’ এবার আর পর্দার আড়ালে নন—তিনি নিজেই নেমেছেন ভোটের ময়দানে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেই রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। নারায়ণগঞ্জের প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)-এর প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর হাতে উঠল তার দলীয় প্রতীক “হাতি”। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হলো—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে হাতি মার্কা নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন রাজনীতির এই কিং মেকার।

প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিক্রিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলার মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সকলের পরিচিত মুখ। আমার দল এবং প্রতীক ও আমার মতোই সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে হাতি মার্কার কোনো বিকল্প নেই। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে। দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে জনগণের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে আমার মূল লক্ষ্য।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, “জলাবদ্ধতা হ্রাস, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন এবং আধুনিক খেলার মাঠ গড়ে তুলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনকে ঢেলে সাজানোই হবে আমার প্রথম ও প্রধান কাজ।”

মোহাম্মদ আলী এমন একজন নেতা—যিনি ভোটারদের মন বোঝেন, মাঠ বোঝেন এবং সময় বুঝে চাল দেন।
অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই ‘ঝানু’ রাজনীতিবিদ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বরাবরই পরিচিত একজন সমীকরণ বদলে দেওয়া নেতা হিসেবে। যিনি প্রার্থী ঠিক করেন, জয়ের অঙ্ক কষেন এবং প্রয়োজন হলে পুরো ভোটের দৃশ্যপট উল্টে দেন। যিনি নিজস্ব ক্যারিশমায় অর্জন করেছেন “কিং মেকার” খেতাব, হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির এক অনিবার্য শক্তি।

যিনি এতদিন কিং মেকার ছিলেন, এবার তিনিই হতে চান কিং। তিনি যেমন নিজে একজন হেভিওয়েট, ঠিক তেমনি তার প্রতীকও হেভিওয়েট “হাতি” ।

উল্লেখ্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এদিন নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৪৭ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ ঘোষণা করেন। তবে প্রতীক বরাদ্দের এই তালিকার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে—হাতি মার্কায় মোহাম্মদ আলীর এন্ট্রি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটের মাঠে এখন ভোটারদের একটাই প্রশ্ন— বৃহদাকার হাতির পদচারণায় টিকতে পারবে কে ?

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >