নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এফ.বি.সি.সি.আই এর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান পদটি বর্ধিত করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে গত ২৩ অক্টোবর ‘হাতি’ প্রতীক নিয়ে নিবন্ধন লাভ করে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি। দীর্ঘ ১২ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম ও আইনি লড়াই শেষে নিবন্ধন পাওয়াকে দলটির জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতারা।
দলটির চেয়ারম্যান কে. এম. আবু হানিফ হৃদয় বলেন, “২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি গঠনের উদ্যোগ নেই। তিনি শুধু রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাই দেননি, ২০১৮ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রায় দেড় শতাধিক অফিস কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করে দলকে নিবন্ধনের পথে এগিয়ে নেন।”
তিনি আরও জানান, নিবন্ধনের আগ পর্যন্ত একাধিকবার মোহাম্মদ আলীকে দলীয় নেতৃত্বে আনতে চেষ্টা করা হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। বরাবরই তিনি বলেছেন, “তোমার সাংগঠনিক ক্ষমতা ভালো, দল চালিয়ে যাও।” তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতি ও নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ডেকে নিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছিলেন। এবার দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও আমার কোনো ক্ষোভ নেই। জীবনের শেষ সময়ে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য কিছু করে যেতে চাই। সে জন্য জাতীয় নেতৃত্বে থাকা জরুরি।
মোহাম্মদ আলী আরও জানান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নিজের প্রতিষ্ঠিত দলের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রথম নিবন্ধিত দল হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে। আমরা কোনো জোটে নেই, এককভাবে নির্বাচন করছি। ফলে সরকার যেই গঠন করুক, বিজয়ী হলে সংসদে আমাদের দলের গুরুত্ব ও মূল্যায়ন থাকবে সবচেয়ে বেশি।
মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে। কারণ, দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়াই হবে তার মূল লক্ষ্য।




