নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এখন এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম জহির পরিবার। ফতুল্লা যেন এখন এক আতঙ্কের জনপদ। সেই আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জহিরুল ইসলাম জহির নামের এক ব্যক্তি। এই প্রভাবশালী জহির চক্রের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, অশ্রাব্য গালিগালাজ, দখলদারির দম্ভ, মারধর, সন্ত্রাসী আচরণ, নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ পুরো পরিবারকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে। শুধু জহির নন—তার ছেলে সোয়াদ এবং মেয়ে লিজা ও নিলা-ও বাবার মতোই মারমুখি হয়ে উঠেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম (৪৫) ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার জহিরুল ইসলাম (৫৫) ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে একাধিকবার বসতবাড়িতে এসে ভাঙচুর চালায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে অভিযুক্তরা ৫-৬ জন সহযোগীসহ ভুক্তভোগীদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় তারা বসতবাড়িতে ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ে লিমা আক্তারকে মারধর করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এবং ভুক্তভোগীদের মারধরের ফলে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

শুধু শারীরিক নির্যাতনেই থেমে থাকেনি অভিযুক্তরা। তারা প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর ভাষায় হুমকি দিয়ে বলে, বাড়িতে বসবাস চালিয়ে গেলে কিংবা এ বিষয়ে কোথাও অভিযোগ করলে “জীবনে শেষ করে দেওয়া হবে”। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, জহিরের ছেলে সোয়াদ এবং মেয়ে লিজা ও নিলা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার জন্য এগিয়ে আসে। একাধিকবার মারধরের চেষ্টা ও প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিতে রাবেয়ার পরিবার আতঙ্কিত। নারী-শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না তাদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে।
স্বরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম জহির চরম মারমুখী আচরণে লিপ্ত সাথে তার ছেলে-মেয়েরাও। স্থানীয়দের সামনেই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে ভুক্তভোগী পরিবারকে “শেষ করে দেওয়ার” হুমকি দিচ্ছে সে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, জহির নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করছে। তার আচরণে কোনো ভয়-ভীতি নেই, বরং সে বারবার দাবি করছে, আমিই ভেঙেছি দেয়াল,বাড়িঘর,খেলা হবে এবার খেলা হবে,আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও ভয়ংকর। তাদের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক সহযোগিতা ও অদৃশ্য শক্তির মদদেই জহির এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বারবার অভিযোগ জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতেই প্রশ্ন উঠছে, কার মদদে জহির এতটা বেপরোয়া ? কোন শক্তির আশ্রয়ে সে আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে ?
চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, জহিরুল ইসলাম জহির প্রায় ১৬ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখনো পর্যন্ত বাড়িটির কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানা কাগজ দেখাতে পারেনি। তবুও কীভাবে সে অন্যের বসতবাড়িতে দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রতিদিনই নতুন কোনো হামলা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। নারী ও শিশুদের মানসিক অবস্থা ভয়াবহ। যেকোনো সময় প্রাণঘাতী হামলার শিকার হতে পারেন ,এমন শঙ্কায় দিন পার করছেন তারা।
এমতাবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে, তবে কি ঝোপের আড়াল থেকে কোনো শক্তিশালী চক্র বা প্রভাবশালী মহল জহিরকে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে জোগান দিয়ে যাচ্ছে ? নাকি প্রশাসনের ভেতরেই কেউ তাকে নীরব প্রশ্রয় দিচ্ছে ?
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম জহিরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। নইলে যেকোনো সময় এই আতঙ্ক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনায় রূপ নিতে পারে।




