জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেছেন, “হাসিনার একবার না, শতবার ফাঁসি দিলেও তার অপরাধের পূর্ণ বিচার হতে পারে না।ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার ১৭ বছরের দুঃশাসনে দেশের মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বিএনপিসহ হাজারো নিরপরাধ মানুষকে গুম-খুন করেছে। জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-যুবক ও নিরীহ মানুষকে খুন করেছে এই খুনি হাসিনা। অনেক মানুষকে পঙ্গু করেছে,অন্ধত্ব বরণ করেছে অনেকেই,তাদের মধ্যে আমি একজন। এই জুলাই আন্দোলনে আমি আমার একটি চোখ হারিয়েছি। এই অপরাধ এবং হত্যার দায় থেকে সে কখনোই বাঁচতে পারবে না। তার এসব নৃশংস অপরাধের একমাত্র শাস্তি হলো ফাঁসি। দেশের মানুষ আজ অপেক্ষা করছে কবে এই ফাঁসি কার্যকর হবে। যত দ্রুত সম্ভব খুনি হাসিনার ফাঁসি বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী দল, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। আয়নাঘরসহ,গুম-খুন,আত্যাচার,নির্যাতন-নিপীড়ন ,অবিচার এর রাজত্ব কায়েম করেছে। জাতি আজ এই রায়ের মধ্য দিয়ে আংশিক হলেও ন্যায়বিচারের স্বাদ পেয়েছে। জুলাইয়ের শহীদ পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। আবু সাঈদ,মুগ্ধসহ হাজারো জুলাই শহীদ এর আত্মা আজ শান্তি পেয়েছে।এই ট্রাইব্যুনালে একসময় হাসিনা নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরেছে।কিন্তু আজ নিজের তৈরী করা সেই ট্রাইব্যুনালেই সত্যিকারের অপরাধীর খুনি হাসিনার ফাঁসির রায় হয়েছে। আরো এমন বেশ কিছু মামলার রায়েও তার ফাঁসির রায় হবে ইনশাআল্লাহ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রায় ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আনন্দ মিছিল করেছে এবং রাজধানী জুড়ে মিষ্টি বিতরণ করেছে।






