নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন বিসিক শিল্প নগরী এলাকার জুয়েল (৩৪) এর নেতৃত্বে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।
জুয়েল বিসিক ২ নং গেইট এর শাসনগাঁও এলাকার আব্দুল এর ছেলে।
জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিকে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন।তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক বিক্রয় চক্র, যারা কমিশন ভিত্তিতে মাদক বিক্রির কাজ করে থাকে।এসব চক্রের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিয়ার, ও শিষার মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গোপন সূত্রে জানা যায়, জুয়েলের নেতৃত্বাধীন এই মাদক নেটওয়ার্ক এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ফতুল্লা থানাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিসিকের মতো ব্যস্ত জনবহুল এলাকাসহ আশেপাশের আরো বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট গ্রুপ তৈরি করে তাদের হাতে দেওয়া হয় বিক্রির দায়িত্ব ও লাভের অংশ।
জানা গেছে বিসিক ২ নং গেইট সংলগ্ন মার্টিন গার্মেন্টস এর গলিতে বসবাস করেন মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল,তার বাড়ির নিচেই রয়েছে একটি খাবার হোটেল যা জুয়েলের হোটেল নামেই পরিচিত।সেই হোটলকেই মাদক বিক্রির প্রাধান ও নিরাপদ স্থান বানিয়েছেন এই জঘন্য মাদক কারবারি। বিসিক শিল্প এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন“আমাদের এলাকার তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন যুবক মাদকে আসক্ত হচ্ছে।এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পুরো এলাকা মাদকসেবীর ঘাঁটিতে পরিণত হবে।মাদকসেবনের পাশাপাশি জুয়েল এবং তার সহযোগীরা নানা অপকর্মের মাধ্যমে সমাজে ইভটেজিং,অস্থিরতা ও অরাজকতার সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে ২০২৪ এর ৫ই আগষ্ট পালিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা।হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আগুনে ঘি ঢালার মতো জেগে উঠেছে তার নানা অপকর্ম এবং মাদকের এই বিশাল সাম্রাজ্য।
স্থানীয় সচেতন মহল নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সমাজ বিনষ্টকারী এই জঘন্য মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন।
তারা বলেন, শুধুমাত্র মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না যাদের শেল্টারে এই অপরাধ চলছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি, জুয়েল ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক-১.তারা কার কাছ থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করছে,২.কার কাছে বিক্রি করছে ৩.এবং কার শেল্টারে এ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইলের কল লিস্ট ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাদক ডিলারদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরকে অভ্যন্তরীণভাবে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন এলাকাবাসী।






