নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জজ কোর্ট সংলগ্ন পার্কিং এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের মধ্য দিয়ে একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ। অভিযানে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ আরও দুটি চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী।
পুলিশ জানায়, গত ২২ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে রাখা টয়োটা এক্স করোলা মডেল-২০০৬ এর একটি প্রাইভেটকার চুরি হয়। গাড়ির মালিক মোহাম্মদ আরিফ নাস্তা করতে গিয়ে ফিরে এসে গাড়ি না পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ফতুল্লা মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় চক্রের মূলহোতা ফতুল্লার দেলপাড়া-চিতাশাল এলাকা থেকে মুক্তার হোসেন ওরফে মুক্তা ৪৮ কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অপর দুই সদস্য মো. মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন ৪২ এবং আলাউদ্দিন ৩৬ কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলা গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে একটি পুরাতন নোয়া মাইক্রোবাস ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-৯২৩০ এবং একটি প্রাইভেটকার চট্টগ্রাম মেট্রো-ঘ-১-২৮০ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি গাড়ি চুরি এবং একটি মাদক মামলা। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় পার্কিং ও নির্জন এলাকা থেকে গাড়ি চুরি করে নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করে পাচার করত।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, মাত্র ৫ দিনের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আন্তঃজেলা চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কোনো চোরচক্রের ঠাঁই হবে না। গাড়ি চুরি রোধে পার্কিং এলাকায় সিসিটিভি কাভারেজ বাড়ানো এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং উদ্ধার হওয়া অন্যান্য গাড়ির প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের কাজ চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।






