নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে করা ১০টি মামলার আসামি সাবেক ইউপি সদস্য মনির মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনির মেম্বার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খাসেরগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির মেম্বারের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে খানপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মনির মেম্বারের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পিরোজপুর ইউনিয়নের খাসেরগাঁও ও আশপাশের এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনির মেম্বারের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখতে হবে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এলাকায় অপরাধ কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও বাড়বে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করেই অভিযান থামিয়ে না দিয়ে এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। এতে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার পরিবেশ আরও জোরদার হবে।






