নারায়ণগঞ্জ ।
,

খান সাহেবে ‘সাতখুন’ মাফ!

বিশেষ প্রতিবেদক : ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় থেকে মাঠে জীবন দিয়েছিল বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা স্বশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, দুর্ধর্ষ সেই অস্ত্রধারী আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই কিনা আলোচিত এক বিএনপি নেতার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছেন! এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা! থানা পুলিশের নানা কাজ-কর্মের নাকি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রকও বনে গেছেন!


বলা হচ্ছে আজমেরী ওসমানের ক্যাডার বান্টি ও অয়ন ওসমানের ক্যাডার রিপনের কথা। আওয়ামী লীগ করা সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও তারা উভয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা জাকির খানের আশ্রয়ে! এমনকি জাকির খানের সবচেয়ে কাছের লোক হিসেবে নিজেদের জাহির করছেন নানা ভাবে। সেই পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বৈধ-অবৈধ সকল সেক্টরে। চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজী ও ভূমিদস্যুতাও।


ফলে বিষয়টিকে ‘সাত খুন মাফের’ এর মতই বাংলা প্রবচনের যথার্থ উদাহরণ বলে মনে করছেন সকলে। মূলত, সমাজে ক্ষমতাধর বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেপরোয়া আচরণ ও দায়মুক্তি বোঝাতে এই প্রবচন ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যেখানে ছোট অপরাধেও বড় শাস্তি হয়, সেখানে ক্ষমতাধর নেতার ছায়ায় থাকলে যেন বড় অপরাধও ধামাচাপা পড়ে যায়।


বাংলা প্রবচনের এই দৃষ্টান্ত এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিরাজ করছে। আলোচিত বিএনপি নেতা জাকির খানের দৃষ্টিতে যেন বান্টি-রিপনের জন্য সাত খুন মাফ! তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে আজমেরী ও অয়ন ওসমানের ক্যাডার হিসেবে দাপিয়ে বেড়ানো কিংবা বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও জাকির খান যেন তাদের আশ্রয় দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি বরং নিজের ছায়া বানিয়ে পুরস্কৃত করেছেন! এমন সমালোচনা চলছে সর্ব মহলে।


জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর ভোলপাল্টে আওয়ামী লীগ থেকে রাতারাতি বিএনপিতে এসে জাকির খানের লোক বনে যাওয়া বান্টি শহরের ২নং রেলগেইট এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন শহীদনগর সুকুমপট্টি এলাকার বাসিন্দা।


বান্টি আওয়ামী লীগের আমলে শহরের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে শহরে দাপিয়ে বেড়াতেন। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, নারী দিয়ে ব্ল্যাক মেইলিং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বান্টি ছিলো আলোচিত এক নাম।


অন্যদিকে, শহীদ নগর এলাকার বাসিন্দা রিপন নানা কারণেই ছিলেন সমালোচনায়। তিনি কখনো মেয়র আইভী, কখনো শামীম ওসমান, কখনও অয়ন ওসমান, কখনো কথিত ছাত্রলীগ ক্যাডার কাউসার কখনও আবার আজমেরী ওসমানের ছায়ায় থেকে চালিয়ে গেছেন ভূমিদস্যুতা। ভেজাল সেমাই কারখানা চালিয়ে বারংবার ভ্রাম্যমান আদালতের শাস্তি ভোগ করা রিপনকে অনেকেই চেনেন সেমাই রিপন নামে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও ভূয়া মামলা দায়ের করে হয়রানী করার কুখ্যাতি রয়েছে রিপনের।


আওয়ামী লীগের সময়ে দাপিয়ে বেড়ালেও ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় রেহায় পায়নি রিপন। গ্রেফতার হয়ে কয়েক মাস জেল খেটেছিল সে। জামিনে বের হয়ে রিপন নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে ধিরে ধিরে মিশে যান জাকির খানের সাথে। চতুর স্বভাবের হওয়ায় রিপন তার নানা কলাকৌশল ব্যবহার করে জাকির খানকে ম্যানেজও করে ফেলেন। এতে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রিপনকে। তিনি জাকির খানের ছায়া হয়ে উঠেছেন। জাকির খান যেখানে যান, সেখানেই দেখা যায় রিপনকে। এমনকি বিদেশেও জাকির খানের সাথে সফর সঙ্গী হয়েছেন রিপন। জাকির খানকে বশ করে বর্তমানে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে উঠতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই ভূমিদস্যু।


এদিকে আজমেরী ওসমানের সাবেক ক্যাডার বান্টিও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালিয়ে হত্যা কাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন। বান্টি আজমেরী ওসমানের হয়ে আন্দোলন বিরোধী অবস্থানে সক্রিয় ছিলেন। গাড়ী বহর নিয়ে শহর থেকে শহরতলী পর্যন্ত ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন। সেই বান্টিও জাকির খানকে ম্যানেজ করে তার আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। জাকির খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হতে নানা কলাকৌশল ব্যবহার করছেন। তবে বান্টির কারণে রিপনের পথ পরিস্কার হয়ে উঠছে না। এতে জাকির খানের কর্মীদের মাঝেও বান্টি ও রিপনকে ঘিরে দুুই পক্ষ তৈরী হয়েছে।


মূলত, নিজেদের অবস্থান ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাকির খানের নৈকট্য লাভের আশায় বান্টি ও রিপনের মাঝে অদৃশ্য প্রতিযোগীতা চলছে। এই প্রতিযোগীতায় কে এগিয়ে আছে- তা নিয়েও খান গ্রুপের মাঝে চলছে নানা গুঞ্জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >