বন্দর প্রতিনিধি: বন্দরে পূর্ব শত্রুতা ও অর্থ লেনদেনের জের ধরে রাজু (২২) নামে এক যুবককে কৌশলে ডেকে এনে ধারালো রামদা ও সুইচ গিয়ার দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা। হামলায় ওই যুবকের হাতের রগ ও কব্জি কেটে গেছে এবং পেট ও কানের লতিতে মারাত্মক জখম হয়েছে।
গত রোববার (১৪ জুন) বন্দর থানার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আহত রাজু বন্দর শাহীমসজিদ দত্তবাড়ি এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখানে তার অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ প্রহরায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ইউনিয়নের পুরানবন্দর খালপাড় সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে নাজমা ও তার স্বামী শফিকুল ইসলাম। এলাকায় তারা জমজমাট মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং চড়া সুদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রতি শুক্রবার রাতে এই দম্পতি এলাকার কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের নিয়ে বিরিয়ানি ও মদের পার্টির আয়োজন করত।
জানা যায়, বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার যুবক রাজুর সাথে এই মাদক সম্রাজ্ঞী নাজমা ও শফিকুলের বেশ কিছুদিন ধরে মাদক ও সুদের টাকার লেনদেন নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই রাজুকে প্রানে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে এই দম্পতি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গতকাল রোববার কৌশলে ফোন করে রাজুকে চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ডেকে আনে নাজমা। রাজু তার মোটরসাইকেল যোগে শাহী মসজিদ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে চৌধুরী বাড়ি পৌঁছামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল নাজমা ও শফিকুলের নেতৃত্বে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চতুর নাজমা ও শফিকুল রাজুকে ঘিরে চারপাশে একটি কৃত্রিম ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) তৈরি করে, যাতে সাধারণ মানুষ রাজুকে বাঁচাতে এগিয়ে না আসে।
এরপর শুরু হয় পৈশাচিক বর্বরতা। শফিকুল তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে রাজুর হাতের কব্জি ও প্রধান রগ কেটে যায় এবং কানের লতি মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে যায়। একই সময়ে নাজমা নিজের কাছে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার দিয়ে রাজুর তলপেটে উপর্যোপরি আঘাত করে। রাজু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্যান্য হামলাকারীরা তাকে লাথি-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করার পর বেঁধে রাখে।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত রাজুকে উদ্ধার করে পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে পাঠায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজুর পেট এবং হাতের জখম অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি অভিযান চলছিল এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।








