ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—নির্বাচনী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউই পার পাবে না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়ার আগে এসব কথা বলেন তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করতে হবে। তা সম্ভব না হলে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, অভিযোগ জানানো যাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট থানায়। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হয়েছে একটি ইলেক্টোরাল কমিটি, যেখানে পাঁচজন সিভিল জজ ও যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্তে সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“কোনো অপরাধ করেই রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই,”—কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন তিনি।
নির্বাচনী জনসভা প্রসঙ্গে রায়হান কবির বলেন, যিনি আগে আবেদন করবেন, তিনিই আগে নির্ধারিত স্থান পাবেন। অনুমোদনপ্রাপ্ত স্থানের বাইরে কোনোভাবেই জনসভা করা যাবে না। গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে প্রশাসন বিভ্রান্ত হবে না; বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কে তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালটে দেওয়া ভোট নির্বাচনের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। ওই সময় থেকেই ভোট গণনা শুরু হবে। জেলার পাঁচটি আসনের জন্য পাঁচটি পৃথক কক্ষে ভোট গণনা করা হবে এবং প্রত্যেক প্রার্থী একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীদের অবশ্যই প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি ও উপস্থিতিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। প্রার্থী ও অনুমোদিত এজেন্ট ছাড়া অতিরিক্ত কেউ ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন, ফলাফল যাই হোক, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশনের মামলা করার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি ফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার, ব্যানারসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। ওই সময় পর্যন্ত আচরণবিধি বহাল থাকবে।
শেষে তিনি সকল প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর হুসাইন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট ও নেতা-কর্মীরা।







