আসন বণ্টন নিয়ে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ভেঙে গেল ইসলামী জোটে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ও সমমনা জোট থেকে বেরিয়ে এসে নারায়ণগঞ্জের চারটি সংসদীয় আসনেই এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে জেলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ ও বাড়ছে ভোটের মাঠের উত্তাপ।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-২ ছাড়া বাকি চারটি আসনে তাদের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীই বৈধ ঘোষিত হয়েছেন।
তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ আটটি ইসলামী দল একযোগে রাজপথে আন্দোলনে ছিল। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হয়ে গড়ে ওঠে ১১ দলীয় একটি সমঝোতা কাঠামো। যদিও দলগুলো একে রাজনৈতিক জোট নয়, বরং ‘আসনভিত্তিক সমঝোতা’ বলেই দাবি করছিল।
কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরই আসন বণ্টন নিয়ে দেখা দেয় তীব্র মতবিরোধ। কয়েকদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের একপর্যায়ে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়।
এর আগের রাতে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়েই আসন বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী। সেখানে এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন—যা ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন-নারায়ণগঞ্জ-১: মো. ইমদাদুল্লাহ,নারায়ণগঞ্জ-৩: গোলাম মসীহ্না,নারায়ণগঞ্জ-৪: মুফতি ইসমাইল কাউসার,নারায়ণগঞ্জ-৫: মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন,
“ইসলামী আন্দোলন আগেও এককভাবে নির্বাচন করেছে এবং আমাদের প্রার্থীদের ভোটের মাঠে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক বড় দলের তুলনায় আমাদের ভোটের মাঠের সফলতা বেশি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনে আমরা প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানান, প্রতীক বরাদ্দের পরপরই ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন।
এদিকে, গতরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১১ দলীয় সমঝোতার একটি তালিকা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তালিকায় দেখা যায়—
নারায়ণগঞ্জ-১ ও ২: জামায়াতে ইসলামী,নারায়ণগঞ্জ-৩: ইসলামী আন্দোলন,নারায়ণগঞ্জ-৪: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি),নারায়ণগঞ্জ-৫: খেলাফত মজলিস
এই তালিকাই শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জোটত্যাগের চূড়ান্ত কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের একক লড়াই শুধু ইসলামী ভোটব্যাংকেই বিভাজন আনবে না, বরং মূলধারার রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে এই সিদ্ধান্ত ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




