নারায়ণগঞ্জ ।
,

নারায়ণগঞ্জে গোপনে ‘আশ্রয় বহুমুখী সমবায় সমিতি’র ভবন বিক্রির পায়তারা, তদন্তের দাবি সদস্যদের

নারায়ণগঞ্জের কাশীপুর গোয়ালবন্দ এলাকায় ‘আশ্রয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এর (রেজি. নং–২৭৬) ভবন বিক্রির চেষ্টা, আর্থিক অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, অভিযোগ তদন্ত, ভবন রক্ষা এবং সমিতির কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সদস্য ও এলাকাবাসী।

এসব দাবি নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর হাটখোলা সমাজ উন্নয়ন সংসদের সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেন সদস্যরা। আবেদনের অনুলিপি জেলা ও সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়, কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং ফতুল্লা মডেল থানায় দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমিতিটি ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন’ নারায়ণগঞ্জ এডিপির উদ্যোগে কাশিপুর দক্ষিণ গোয়ালবন্দ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। পরবর্তী সময়ে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় জেলা সমবায় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হতো। শুরুতে সমবায় আইন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চললেও ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সমিতি পরিচালিত হতে থাকে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের পর সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রভাব ছিল বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।

জানা গেছে, কাশীপুর মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত তাসলিমা আক্তার সমিতির সাধারন সম্পাদক, যিনি কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তাসলিমা আক্তারের বড় বোন নাসিমা ইসলাম ফতুল্লা থানা মহিলা লীগের সহসাধারণ সম্পাদক। সমিতির কর্মচারী ফরিদা বেগম তাসলিমা আক্তারের খালাতো বোন। এই ফরিদা বেগমের বিরুদ্ধে রয়েছে ২০-২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। তাসলিমা আক্তার ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সাধারণ সদস্যদের কাছে এ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য জানিয়েছিলেন। তবে এই টাকা উদ্ধার সম্পর্কিত কোনো তথ্য পরিবর্তিতে সদস্যদের দেয়া হয়নি।

বর্তমানে তাসলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ভবন বিক্রির চেষ্টা এবং প্রতিবাদকারীদের মামলা ও হামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সমিতির সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, আর্থিক অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায় ৮ বছর ধরে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কার্যালয়টি সব সময় তালাবদ্ধ থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজন হলে সেটি খোলা হয়।

সমিতির সাধারণ সদস্যরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সমিতির মূলধন, সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে সদস্যদের কাছে স্বচ্ছ হিসাব উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

এদিকে তাসলিমা আক্তার সমিতির ভবন বিক্রির চেষ্টা করছেন। ফলে ভবনটি কেনার আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন নিয়মিত সেখানে আসছেন এবং ভবনটি দেখছেন।

সাধারণ সদস্যরা এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, তাসলিমা আক্তার বর্তমানে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাকর্মীর সহযোগিতায় ভবনটি বিক্রি করে সমিতির সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা মোল্লা বাপ্পির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এলাকায় উক্ত সমিতির অসংখ্য সদস্যদের টাকা বুঝিয়ে না দেয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে গোপনে ভবন বিক্রির বিষয় এবং স্থানীয় বিএনপির কোন নেতা/কর্মীর সহযোগিতায় তাসলিমা আক্তার এই পায়তারা করছেন সেটি এখনও জানিনা। তবে আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিব এবং সাধারন মানুষের অধিকার রক্ষায় অবশ্যই পাশে থাকব।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এদিকে ভুক্তভোগি সদস্যরাও সমিতির আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমবায় আইন ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে সমিতির কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং সাধারণ সদস্যদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানােন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >