নারায়ণগঞ্জ ।
,

চাষাড়ায় বিজয়স্তম্ভ ঘিরে ৬ অটো-সিএনজি স্ট্যান্ড, যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিজয়স্তম্ভ ও এর আশপাশে গড়ে ওঠা একাধিক অটো-সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সড়কে কংক্রিটের ডিভাইডারসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যত্রতত্র অটো ও সিএনজি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে এসব স্ট্যান্ডকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাষাড়ার কয়েকশ গজের মধ্যেই অন্তত ছয়টি স্থানে ছোট অটোরিকশা ও সিএনজির স্ট্যান্ড বা অস্থায়ী স্ট্যান্ডের মতো করে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ব্যস্ততম এই এলাকায় সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময়, স্কুল-কলেজ ছুটির সময় এবং সন্ধ্যায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শান্তনা মার্কেটের বিপরীতে শহীদ মিনারের পাশে রয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড। এখান থেকে মূলত রিজার্ভ যাত্রী পরিবহনের জন্য সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া সুগন্ধা বেকারি থেকে বাগে জান্নাত মসজিদ পর্যন্ত সড়কের পাশে ছোট অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। এসব গাড়িতে চাষাড়া থেকে চৌধুরীবাড়ীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ওঠানামা করেন।

খাজা সুপার মার্কেটের পাশেও রয়েছে ছোট অটোরিকশার আরেকটি স্ট্যান্ড। সেখান থেকে চাষাড়া-নিতাইগঞ্জ রুটের যাত্রী পরিবহন করা হয়। ব্যস্ত সড়কের পাশে গাড়িগুলো অপেক্ষমাণ থাকায় অনেক সময় মূল সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়।

অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংক থেকে সমবায় মার্কেট পর্যন্ত সড়কের অংশেও সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এখান থেকে চাষাড়া-মুক্তারপুর ব্রিজমুখী যাত্রী পরিবহন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

মহিলা কলেজ ও আল জার্নাল ট্রেড সেন্টারের আশপাশেও বিভিন্ন সময় ছোট অটোরিকশা ও সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসব গাড়ি চাষাড়া-ফতুল্লা রুটে যাত্রী পরিবহন করে।

তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন রাইফেল ক্লাবের প্রবেশপথের বিপরীতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের প্রবেশমুখে নতুন করে গড়ে ওঠা অটো-সিএনজি স্ট্যান্ডকে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশমুখে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কের একটি অংশ কার্যত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বড় অটো বন্ধ, ছোট অটো-সিএনজিতে কেন ভিন্ন নিয়ম?

যানজট নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে বড় অটোরিকশা প্রবেশ ও নির্দিষ্ট স্থানে স্ট্যান্ড করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু একই শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ছোট অটোরিকশা ও সিএনজির জন্য নতুন নতুন স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী।

তাদের প্রশ্ন—যানজট সৃষ্টির কারণ যদি সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়, তাহলে ছোট-বড় সব ধরনের অটোরিকশার ক্ষেত্রেই কি একই নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে? নাকি যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নিয়মের প্রয়োগে ভিন্নতা রয়েছে?

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, যানজট নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক কর্মী এবং ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে এসব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। তাদের সামনেই যদি গাড়িগুলো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠানামা করে, তাহলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে থাকার কথা নয়।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—এসব স্ট্যান্ড কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত, নাকি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে? যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে প্রকাশ্য ব্যস্ত সড়কে দিনের পর দিন কীভাবে এসব স্ট্যান্ড চলছে?

সমাধান কোথায়?

নগরবাসীর দাবি, যানজট নিরসনে শুধু ডিভাইডার, ব্যারিকেড কিংবা কংক্রিটের অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। একই সঙ্গে সড়কের পাশে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানো এবং যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে।

চাষাড়া বিজয়স্তম্ভ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো থেকে অটো-সিএনজি স্ট্যান্ড সরিয়ে নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত স্থানে স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ছোট-বড় সব ধরনের অটোরিকশার জন্য একই নীতিমালা ও একই ধরনের আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন নগরবাসী।

তাদের মতে, যানজট নিয়ন্ত্রণের নামে এক শ্রেণির যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অন্য শ্রেণির যানবাহনকে ব্যস্ত সড়কে স্ট্যান্ড করার সুযোগ দেওয়া হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং এতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নগরবাসীর দাবি, চাষাড়া শহরের প্রবেশদ্বার ও প্রাণকেন্দ্র। এই এলাকার সড়ককে কোনোভাবেই অনিয়ন্ত্রিত স্ট্যান্ডের জায়গায় পরিণত করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রুটের অটো ও সিএনজির জন্য বিকল্প ও নির্ধারিত স্ট্যান্ড তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বা বিশেষ সুবিধার সুযোগ না রেখে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছ, অভিন্ন এবং কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে শুধু সড়কের নকশা পরিবর্তন নয়—সড়ক ব্যবহারের নিয়মও সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >