নারায়ণগঞ্জ ।
,

ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়ার সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধে যানজট নিরসনের পথে নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের কঠোর নির্দেশনা এবং ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির নাম নারায়ণগঞ্জের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখছেন নগরবাসী।

এই পরিবর্তনের নেপথ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ মো: জিয়াউদ্দিন খান জিয়া ও তার টিম। তার সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই যানজট নিরসনে গতি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জ শহরের রাস্তায় ধারণক্ষমতার তুলনায় গাড়ির চাপ কয়েক গুণ বেশি। বিশেষ করে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক এবং নিয়ম না মেনে যত্রতত্র গাড়ি চালানোর প্রবণতা যানজটকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছিল।

শহরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পয়েন্ট চাষাঢ়া। এটি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল। এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ও যানবাহনের চলাচল। একটু বেখেয়াল হলেই পুরো শহর অচল হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ট্রাফিক বিভাগকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

সেই নির্দেশনার আলোকেই ট্রাফিক ইনচার্জ মো:জিয়াউদ্দিন জিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত রাস্তায় থেকে নিষ্ঠার সাথে যানজট নিরসনে কাজ করছেন।

যাত্রীদের অভিমত, আগে যেখানে চাষাঢ়া থেকে ২নং রেলগেট বা সাইনবোর্ড যেতে ঘণ্টা পার হয়ে যেত, এখন সেখানে অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ও তৎপর দেখা যাচ্ছে।এজন্য নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগকে বিভিন্ন যাত্রীরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, ট্রাফিক পুলিশ এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে হাতের ইশারায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে টিআই জিয়া সাহেবকে মাঠে থেকে সর্বোচ্চ কঠোরতায় কাজ করতে দেখা যাচ্ছে । এতে চালকরাও নিয়ম মানতে বাধ্য হচ্ছে এবং শৃঙ্খলা ভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। যার কারণে যানজট অনেকটাই নিরসন হচ্ছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ জিয়া বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের কঠোর নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। যানজট নিরসনে আমাদের টিম ২৪ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে রাস্তার উপরে অবৈধ হকার ও ফুটপাত দখলের কারণে আমাদের যানজট নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন যদি সমন্বিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করে, তাহলে আমাদের জন্য যানজট নিরসন করা অনেক সহজ হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা শুধু জরিমানা বা মামলায় বিশ্বাস করি না, আমরা সচেতনতায় বিশ্বাস করি। চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছি। তবে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু পুলিশ নয়, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নারায়ণগঞ্জকে একটি শৃঙ্খল যানজট মুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যানজট স্থায়ীভাবে নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে জনগণকে বাধ্য করা, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান এবং ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়ন।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ তদারকি এবং ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়ার মাঠপর্যায়ের দক্ষ নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জবাসী এখন যানজটমুক্ত একটি গতিশীল শহরের স্বপ্ন দেখছে।

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >