দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনার ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এর সমন্বিত উদ্যোগে ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখছেন নগরবাসী।
সম্প্রতি পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান শহরের যানজটপ্রবণ এলাকা চাষাড়া, লিংক রোড, কলেজ রোড, বঙ্গবন্ধু সড়ক ও টার্মিনাল এলাকা সরাসরি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ট্রাফিক বিভাগকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং যানজট নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই শুনেছি নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। তাই এটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন,জেলা ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—শহরের গাড়িগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও ট্রাফিক আইন অমান্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকে হতে হবে জনবান্ধব ও সেবামুখী।
পুলিশের কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে অফিস সময়েও চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড, চাষাড়া থেকে ২ নং রেলগেট এবং জিমখানা থেকে টানবাজার পর্যন্ত যান চলাচলে আগের তুলনায় গতি ফিরেছে। শহরবাসী এখন তুলনামূলক কম ভোগান্তিতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, আগে চাষাড়া পার হতে ৪০ মিনিট লাগত। এখন ১৫ মিনিটেই যাওয়া যায়। ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে—এটা বড় পরিবর্তন।
যানজট নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগ, ব্যবসায়ী, চালক ও জনগণ—সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। সবার সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জকে যানজটমুক্ত করা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের এক নেতা বলেন, যানজট শুধু ভোগান্তি নয়, এটি অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। নতুন এসপি মাঠে নেমে যে গতিশীলতা এনেছেন, তা ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ অটোরিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান দরকার।
একজন শিক্ষক বলেন, শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি। চালক ও পথচারী উভয়কেই ট্রাফিক আইন মানতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল বলছেন, চাষাড়া মোড় শহরের হৃদস্পন্দন ও প্রাণকেন্দ্র। এটি শুধু একটি মোড় নয়, এটি যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের চলাচল এই সড়ক দিয়ে। তাই চাষাড়া মোড়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবসময় যানজটমুক্ত রাখার জন্য তারা পুলিশ সুপারের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, যানজট নিরসনে পর্যায়ক্রমে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্যতা, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পুলিশ সুপারের মাঠে থাকা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:






