নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা শুভ চন্দ্র দাস হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলাটির তদন্তে গ্রেফতার আসামি সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নারায়ণগঞ্জ।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পরবর্তীতে এজাহারভুক্ত আসামি সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ গজ পূর্বে ফুটপাতসংলগ্ন গাছের ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি শপিং ব্যাগে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা পিস্তলটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক সাড়ে ৭ ইঞ্চি। অস্ত্রটির ব্যারেলে ইংরেজিতে “MADE IN USA 7.65 MM” লেখা রয়েছে। পিস্তলটির সঙ্গে একটি ম্যাগাজিনও পাওয়া যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে নিয়মিত জব্দ তালিকার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয় এবং জব্দ তালিকায় উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্ববিরোধ ও মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শুভ চন্দ্র দাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের হেফাজত বা দখলে রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878-এর ১৯(এ) ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




