নারায়ণগঞ্জ ।
,

মূল্যায়ন করছেনা বিএনপি এমন অভিযোগের যেন শেষ নেই আর আখের গোছাচ্ছে সুবিধাবাদীরা!!

আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে দলকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে আসছে তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করছেনা বিএনপি এমন অভিযোগের যেন শেষ নেই। ফেব্রুয়ারীতে সরকার গঠনের পরবর্তী সময়ে দলের ভেতরে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী দোসরদের ব্যাপক পদচারনা। ত্যাগীদের অবমুল্যায়ন করে সুবিধাবাদীরা বর্তমানে আওয়ামী দোসরদের প্রতি সুনজর দিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজেদের আখের গোছাতে মাঠে আদাজল খেয়ে নেমেছে।


২০২৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের ২নং রেলগেইট এলাকায় ডিবি পুলিশের বন্দুকের ছোড়া গুলিতে নিহত শাওনের নামটি অবশ্যই সকলের মনে আছে। হ্যা মনে শুধুমাত্র নিহত শাওনের পরিবারের আর নারায়ণগঞ্জের আপামর সাধারন মানুষের মাঝে। শুধুমাত্র মনে নেই বিএনপি নেতাদের। শাওন নিহতের ৪ বছর পুর্ন হবে রাত পোহালেই। কিন্তু ৫ আগষ্ট পরবর্তী নারায়ণগঞ্জে বিএনপি,যুবদল-ছাত্রদলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিপুর্নভাবে একত্রিত থাকলেও শূন্যতা রয়েছে শুধুমাত্র নিহত শাওনের পরিবারের মাঝে। হাসিনা পলায়নের পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতারা অর্থশালী বনে গেলেও অনেকটা শূন্যতায় দিনানিপাত করছে শাওনের পরিবার। অনেকটা অসহায়ের মতই দিনযাপন করছে শাওনের পরিবার যেটা কয়েকদিন পুর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গিয়েছে নিহত শাওনের মায়ের অশ্রুসিক্ত নয়নে বলা কথাগুলো। শুধু শাওন নয় এমন অনেক শাওন কিন্তু বিগত ১৭ বছরে দলের জন্য নিবেদিত প্রান ছিল। কিন্তু পটপরিবর্তনের সাথে সাথে সেই ত্যাগীদের পরিবর্তন হয়নি পরিবর্তন হয়েছে ১৭ বছর পর দলে থাকা সুবিধাবাদীদের। শাওন নিহত হলে শাওনকে নিয়ে ব্যবসা কওে লাভবান হয়েছেন অনেক বিএনপি নেতা।


নিহত শাওনের মত গায়ে ১৭টি ছোড়া গুলিবিদ্ধ আরেকজন যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন সানী তিনি দলের প্রতি নিজের ভুমিকার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৫ই আগস্টের আগে কজন ছিলেন রাস্তায় তাদেরকেও আমরা চিনি। পরিবার পরিজনের মায়া ছেড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি, আন্দোলন সফল করার উদ্দেশ্যে সহযোদ্ধাদের নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করেছি। ফিরবো কিনা তাও জানতাম না। যদি পুলিশের গুলিতে রাস্তায় মৃত্যু হতো সন্তান হতো এতিম। স্ত্রী হতো বিধবা। এক দিকে রাস্তায় মৃত্যুর ভয়, আরেক দিকে বাসায় পুলিশের ভয়। যে কোন সময় দুইটির একটি ঘটতে পারতো আমার / আমাদের উপর। গ্রেফতারের ভয়ে বাসা থেকে মাসকে মাস বাহিরে থাকতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের মামলা থেকেও রেহাই পাইনি। তারপরেও আমরা বুকে হাত রেখে বলতে পারি আমরা জিয়ার আদর্শের সৈনিক। ২০০৯ সাল থেকে রাজপথে আন্দোলনে বিএনপিসহ ৪২টি সমমনা দল এক সাথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো।


তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে কোন অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা এক হয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ আর পুলিশকে উপেক্ষা করেই রাজনীতি করে এসেছি। দেশের দূর্দিনে আমরা সাথী ভাই, আর সুদিনে ফায়দা নিবে সুবিধাবাদী দালাল চাটুকার টাকাওলারা। এটা হয়তো ক্ষনিকের, দিন শেষে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রয়োজন পড়বে। জুলাই আগষ্টের আন্দোলনে ২৪ স্বাধীন হয়েছে। আন্দোলন সফল না হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের কি অবস্থা হতো এটা ভুক্তভোগী যারা তারাই জানে, তাই সকলকে আহবান করবো। যারা সিনিয়র দায়িত্বশীলরা আছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে কাজ করেন, না হয় ফ্যাসিবাদ সুবিধা নিবে, পুনরায় শক্তিশালি হবে, আর তখন তাদের রুখতে পারবেন কিনা সেটিও চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়াবে।এই মুহূর্তে তৃনমুল নেতাকর্মীদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।


তিনি আরো বলেন, যেদিন যুবদল নেতা শাওন পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সেদিন ওর পাশেই কিন্তু আমি ছিলাম। সেদিন হয়তবা আমিও মারা যেতাম কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাচিয়েছে। তারপরও পুলিশের ছোড়া গুলি আমার দেহে লেগেছে। তিনি বলেন, ১৭ বছরে ৫ বার জেল খেটেছি,পরিবার-পরিজন রেখে অন্যত্র পালিয়ে বেড়িয়েছি তবু দলের মায়া ত্যাগ করিনি দলকে ভালবাসি বলে।


পরিশেষে জোড়ালো দাবী জানাচ্ছি দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলকে যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >