বন্দর প্রতিনিধি: বন্দরে মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দরের মুরাদপুর এলাকার জমত আলীর ছেলে জমির দালাল আবদুল কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের প্ররোচনায় ও কুমন্ত্রনায় নানা জটিল মামলায় জড়িয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এমনই এক মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটেছে বন্দরের মুরাদপুর এলাকায়। বড় ভাই নয়ন ভুইয়ার বিরুদ্ধে ছোট ভাই তোফাজ্জল ভুইয়াকে লেলিয়ে দিয়ে তাকে দিয়ে মামলা করিয়ে ফায়দা লুটছে কুদ্দুস গং। এ ব্যাপারে কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
ছোট ভাই তোফাজ্জলের কাছ থেকে ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও আর,এস রেকডিয় মালিক সহোদর ভাই নয়ন আলী ভুইয়া নামজারী করায় হয়রানি করার উদ্দেশ্য আদালতে নিরীহ ভাইসহ ভাইয়ের আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যূ কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তির প্ররোচনায় মামলা করেছে তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া। তোফাজ্জল ভূইয়া তার ভাইকে সামাজিক ভাবে হেয় ও অপদস্ত করতে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বন্দর আমলী আদালতে এ মামলা করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্দর উপজেলার মুরাদপুর এলাকার মৃত ডেঙ্গুর আলী ভূঁইয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া তাঁর মালিকানাধীন এসএ ৪৯ ও আরএস ৮০ দাগের জমি আপন বড় ভাই নয়ন আলী ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করেন। জমি ক্রয়ের পর নয়ন আলী নিয়ম অনুযায়ী নিজ নামে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন। তবে জমি বিক্রি সম্পন্ন করার পরও তোফাজ্জল হোসেন স্থানীয় ভূমিসদস্যু ও দালাল কুদ্দুসসহ একটি প্রতারক চক্রের যোগসাজশে নয়ন আলীকে হয়রানি করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
নয়ন আলী জানান, এস,এ দাগ ৪৯,আর,এস রুপান্তরিত দাগ ৮০ শুদ্ধ দাগ। এই দাগে সর্বশেষ তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া বিক্রি ও হস্তান্তর করেন। নয়ন আলী ভূইয়ার নিকট মোফাজ্জল ভূইয়ার সর্বশেষ এস,এ ৪৯,যার আর,এস ৮০নং দাগের নামজারীর প্যান্টাগ্রাফ মোতাবেক শুদ্ধ হওয়া স্বত্তেও আবদুল কুদ্দুস সহ কতিপয় ভূমিদস্যু নিরীহ সহোদর ভাই নয়ন আলী ভূইয়া ও তার আত্মীয়দের হেয় করার উদ্দেশ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করায়। এর নিরপেক্ষ সঠিক তদন্তের জন্য জোর দাবী জানান ভুক্তভোগী নয়ন আলী ভূইয়া ও মামলার অন্যান্য বিবাদীগণ
উল্লেখ্য তোফাজ্জল ভুইয়া মুরাদপুর এলাকার জমত আলীর ছেলে জমির দালাল কুদ্দুসের মাধ্যমে গত ৪ মে বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি লিখিত আপত্তি জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দেন। শুনানির দিনে তোফাজ্জল নিজে উপস্থিত না হয়ে দালাল কুদ্দুসসহ কয়েকজনকে পাঠান। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে এসি ল্যান্ড কোনো সুরাহা না দিয়ে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। এসি ল্যান্ডের পরামর্শ উপেক্ষা করে নয়ন আলীকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দালাল কুদ্দুসের প্ররোচনায় গত ২৭ আগস্ট তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় আপন বড় ভাই নয়ন আলী, ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন নিরীহ মানুষকে বিবাদী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা আক্তার ইতি জানান, “উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য তোফাজ্জল হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।




