নারায়ণগঞ্জে আবারও সংগঠনের ভেতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। মহানগর জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে ঘিরে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা সামনে এসেছে।
জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা জমিয়তের সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নোটিশ প্রদান করা হয়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এবং জেলা সভাপতিকে অবগত না করেই আগামী ৯ এপ্রিল মহানগর জমিয়তের কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন।
অভিযোগে বলা হয়, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সংগঠনের ভেতরে বিভক্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাওয়াত দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষিত ওই কাউন্সিল স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়—ফেরদাউসুর রহমানকে ঘিরে অতীতের অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্য ও গোপন যোগাযোগ রেখে সুবিধা নিয়েছেন।
শামীম ওসমানের সাথে ফেরদাউসুর রহমানের ছোট ভাই বড় ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল প্রকাশ্যেই। এই শামীম ওসমানের প্রভাবেই নারায়ণগঞ্জে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। এই অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন মহলে সমালোচিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর একাধিক নেতার কাছ থেকেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠে আসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের পতনের পরপরই তিনি নতুন করে সক্রিয় হয়ে কার্যালয় খুলে কথিত “মামলা বাণিজ্যে” জড়িয়ে পড়েন এবং তা থেকে প্রভাব ও অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতি ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে বর্তমান শোকজ, অন্যদিকে অতীতের এই গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে ফেরদাউসুর রহমান এখন তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন।
এদিকে সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভক্তি ঠেকাতে জেলা নেতৃত্বের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই সময়োপযোগী বললেও, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক।







