নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উপজেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সদর-এর আয়োজনে উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ২০৭ সংসদীয় আসনের সব প্রার্থী উপস্থিত থেকে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা, গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, বিএনপি-জমিয়তে জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ-আলম, মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন,“আমরা সবাই একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। চাঁদাবাজি নির্মূল, মাদক হ্রাস, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন,“আপনাদের একার পক্ষে যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়, আমাদের বলুন,আমাদেরকে ডাকুন, আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আর যদি তা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমাদের জানান—আমরা সবাই প্রার্থী হিসেবে পদত্যাগ করে ফেলবো।”
এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল আমিন, শাহ-আলমসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মোহাম্মদ আলীর বক্তব্যের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার এর ঘোষণা দেন এবং কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি জানান।
সভা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।







