নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে বেপরোয়া গতির বলি তরুণ রবি
তিন মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ৪

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অতিরিক্ত গতির ভয়াল পরিণতিতে প্রাণ হারালেন রায়াতুল ইসলাম রবি (২১) নামের এক তরুণ। তিনটি মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় নিহতের বন্ধুসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তানও রয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি ক্যানেলপাড় সংলগ্ন ১০ পাইপ কোবা মসজিদ এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুহূর্তেই ব্যস্ত সড়কটি পরিণত হয় শোক আর আর্তনাদের মঞ্চে।

নিহত রায়াতুল ইসলাম রবি মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার মো. ফারুকের ছেলে এবং নাসিক ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে নিহতের দুই বন্ধু হাবিব ও বিজয়ের নাম জানা গেলেও অপর আহত দম্পতি ও তাদের শিশুসন্তানের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। নিহতের বন্ধু হাবিবুর রহমান জানান, তারা জালকুড়ির দিকে যাওয়ার সময় একসঙ্গে তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তার দাবি, দ্রুতগতিতে চলার সময় বিপরীত দিক থেকে এক দম্পতি তাদের শিশু সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন, তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ।

ঘটনাস্থলের সামনের একটি দোকানের মালিক মিলন বলেন, “যে ছেলেটা মারা গেছে, সে আরেক বন্ধুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুব দ্রুত গতিতে আসছিল। একই সময়ে জালকুড়ির দিক থেকে একটি দম্পতি শিশুকে নিয়ে ফিরছিল। গতি বেশি থাকায় হয়তো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি।”

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠান। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় রায়াতুল ইসলাম রবিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। অন্য আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি মোটরসাইকেল আমাদের হেফাজতে রয়েছে। অপর মোটরসাইকেলে থাকা দম্পতির এখনো খোঁজ মেলেনি। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আহত ও নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি।”

এদিকে অল্প বয়সে এক তরুণের করুণ মৃত্যুতে মিজমিজি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চলাচল বেড়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো—এক মুহূর্তের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিতে পারে একটি তরতাজা প্রাণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >