নারায়ণগঞ্জ যেন ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে এক অদৃশ্য মৃত্যুফাঁদে। বাতাসে শ্বাস নয় মনে হচ্ছে বিষ ঢুকছে ফুসফুসে।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীগুলোর তালিকায় যখন রাজধানী ঢাকা দ্বিতীয় অবস্থানে, ঠিক তখনই শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জও সেই দূষিত সারিতে দ্রুত গতিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে। শহরের বায়ুমান আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে ২০০ ছুঁয়ে গেছে। যা শুধুমাত্র ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ নয়, বরং বিপজ্জনক মাত্রারও অনেক উপরে।

শহরজুড়ে যেনো মহা বিপদের লাল সংকেত, নাগরিকদের মরণ ফাঁদে ফেলছে বিষাক্ত ধূলিকণা। চাষাড়া,পঞ্চবটি, নিতাইগঞ্জ, টানবাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ শিল্পাঞ্চল ও ফতুল্লা এই সব ব্যস্ত এলাকাগুলো এখন কার্যত ‘টক্সিক জোন’। শিশুরা শ্বাস নিচ্ছে বিষে ভরা বাতাস, বয়স্কদের ফুসফুস নিচ্ছে প্রতিমুহূর্তে ঝুঁকি , আর শ্বাসকষ্টের রোগীরা যেন বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করছে এই বাতাসের বিরুদ্ধে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইকিউএয়ার (IQAir) জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের বাতাসে ভাসছে বিপজ্জনক মাত্রার ক্ষুদ্র ধূলিকণা। এই মাত্রার বাতাসে মানুষ শ্বাস নিলে তা ফুসফুস, রক্ত এবং হৃদযন্ত্র পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবরই নীরব , নাগরিকদের জীবন রীতিমতো জিম্মি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুম,সড়কে ধুলোর স্তুপ, নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, আর কালো ধোঁয়া উগড়ে দেওয়া যানবাহনের কারণে নারায়ণগঞ্জের বাতাস ইতোমধ্যে ‘স্বাস্থ্য ঝুঁকির লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো নীরব।শহরে যেন দিন-দিন এক অদৃশ্য মৃত্যুকূপ তৈরি হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ তাতে প্রতিদিন ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখনই সাধারণ মানুষের জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত অন্যথায় জনজীবন মারাত্মক হুমকিতে পরবে যার রেশ কাটিয়ে উঠা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। বায়ুদূষণের এই নাজুক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ ও আইকিউএয়ারের পক্ষ থেকে নগরবাসীর জন্য বেশ কিছু জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে: ১. বাইরে বের হলে এন-৯৫ ছাড়া কোনো মাস্ক ব্যবহারই কার্যকর নয়। ২. খোলা স্থানে ব্যায়াম মানে সরাসরি বিষ ফুসফুসে নেওয়া, তা বন্ধ রাখুন। ৩. বাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন বাইরের বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছে। ৪. শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ তাদের ঘরে রাখুন।

নারায়ণগঞ্জের বাতাস এখন আর শুধুই দূষিত নয় বরং এক অঘোষিত সাইলেন্ট কিলার। বিশেষজ্ঞরা কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যদি এখনই শিল্পকারখানার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজের ধুলা দমন এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে প্রণীত আইন বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে নারায়ণগঞ্জ অচিরেই এক ‘মৃত্যুছায়াচ্ছন্ন শহর’-এ পরিণত হতে পারে।






