সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এনসিপি’র এক নেতা নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে এক অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোষর আখ্যায়িত করে। এমন বিতর্কিত বক্তব্যের পর মোহাম্মদ হাতেম কে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটায় অই এনসিপি নেতা এবং কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ মনির হোসেন জিয়া। বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ও শীর্ষ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাতেমকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল জিয়া। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।বিষয়টিকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এর পরেই হঠাৎ সেই সৃষ্ট বিতর্কে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মোঃ মনির হোসেন জিয়া।তবে সংগঠনের ভেতর-বাহিরে অনেকেই মনে করছেন, নিজের সভাপতি পদ রক্ষার চেষ্টাতেই জিয়া এই ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।ভুলভাল মন্তব্য, না জেনে না বুঝেই কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করা,এবং নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করার ফলে তিনি হারাতে পারেন তার কলেজ শাখার পদ।

কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ মনির হোসেন জিয়া তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন,“কিছুদিন আগে শিল্পকলা একাডেমির এক অনুষ্ঠানে হাতেম সাহেবকে এক এনসিপি নেতা ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোষর’ বলে উল্লেখ করেছিল। সে সময় আমি তাঁর বিষয়ে খুব একটা জানতাম না। পরে মঙ্গলবার আমাদের কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের উদ্যোক্তা সৃষ্টির অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হয়ে আসেন। অনুষ্ঠান চলাকালে কিছু ছাত্র-ছাত্রী এসে অভিযোগ করে যে, এমন ব্যক্তিকে কলেজে কেন আনা হয়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে গিয়ে তাঁকে চলে যেতে বলেছিলাম।

পোস্টে জিয়া আরো বলেন,এখন বুঝতে পারছি, তাঁর মতো একজন সম্মানিত ব্যক্তি যিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত শীর্ষ ব্যবসায়ী ও রপ্তানিখাতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা মোটেই উচিত হয়নি। আমি তাঁর কাছে, বিকেএমইএ’র সদস্য ব্যবসায়ীদের কাছে এবং দেশে-বিদেশে তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”ট্রেড বডির নেতাদের সব সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে চলতে হয়, সেটাই বাস্তবতা। আমি বিষয়টি না বুঝে একটি আবেগপ্রবণ ভুল করেছি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
সিনিয়র রাজনীতিবিদরা মনে করেন,বাচ্চাদের কখনোই এমন উদাসীন মনোভাব হওয়া উচিত না,সকলের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান রেখে জেনে বুঝে তারপর যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
অন্যদিকে ছাত্রদলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,এই ক্ষমা প্রার্থনা মূলত নিজের পদ রক্ষার জন্য। বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও নড়াচড়া সৃষ্টি করেছিল। শীর্ষ পর্যায় থেকে চাপ আসার পরেই হয়তো এমন বিবৃতি তিনি দিয়েছেন।একই সঙ্গে তারা জানান, জিয়া ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ও প্রভাবশালী হলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনার কারণে তাঁর সভাপতি পদটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।







