রাজশাহীর পুঠিয়ায় অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ হওয়ার ছয় দিন পার হলেও থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পিতা পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আত্মহত্যা করার কথা জানান। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ঘোষণা দিয়ে দিলাম, আমি ৬ দিন দেখলাম আর অপেক্ষা নয়, স্বেচ্ছায় ফাঁসি নিলাম, আর কেউ কমেন্ট করবেন না প্লিজ।”
যুবদল নেতা জানান, তার মেয়ে পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গেল ২৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মেয়ে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তার বাড়ি এবং থানা থেকে দুইশ ফিট দূরে হৃদয় নামে এক যুবক তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক একটি মাইক্রাবাসে মেয়েকে নিয়ে গেছে।
স্কুল ছাত্রীর পিতা পুঠিয়া পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে অপহরণের একটি মামলা করেছেন। মূল আসামির অবস্থান সনাক্ত হওয়ার পরও রহস্যজনক কারনে পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করছে না। এছাড়াও এই মামলার অন্যান্য আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তবুও পুঠিয়া থানা পুলিশ তাদের কাউকে আটক করছে না।
ভুক্তভোগীর বাবা আরও বলেন, প্রধান আসামি হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করছিল। মেয়ে রাজি না হওয়ায় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। গত ২৭ অক্টোবর ছয় জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দাখিল করার পরও কেউ আটক হয়নি। আমি নিজ উদ্যোগে আসামিদের অবস্থান পুলিশের কাছে জানিয়েছি, তবুও গ্রেফতার হয়নি। আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেয়ের অনুপস্থিতিতে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন বলেন, মেয়েটি এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধার করতে পারবো।








