দীর্ঘ প্রায় নয় বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি লোকমান হোসেন হাওলাদার ওরফে বাবুর। বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮, বরিশাল।
র্যাব-৮ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-৮ সদর কোম্পানি, বরিশালের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সূত্রাপুর থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি লোকমান হোসেন হাওলাদার ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার লোকমান হোসেন হাওলাদার ওরফে বাবু বরিশালের কাউনিয়া থানার রামকাঠি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. হাবিবুর রহমান হাওলাদার।
র্যাব জানায়, ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগরীর সূত্রাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লোকমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলাটির নম্বর ১২(১২)১৭ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ০২/১৯। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত লোকমান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই পরোয়ানা বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানায় কার্যকর ছিল।
র্যাব-৮ জানায়, পরোয়ানা তামিলকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮-এর অধিনায়কের কাছে একটি অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮-এর গোয়েন্দা দল আসামির অবস্থান শনাক্তে নজরদারি শুরু করে।
গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাব-৮ সদর কোম্পানির একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি লোকমান হোসেন হাওলাদার ওরফে বাবুকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের দাবি, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তারা অভিযান পরিচালনা করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনার এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




