নারায়ণগঞ্জ ।
,

অসাধু ঠিকাদার-দালাল চক্র ও গ্যাস অফিসের একাংশের যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি
গ্যাস সংকটের আড়ালে অবৈধ সংযোগের রমরমা বাণিজ্য:

গ্যাস সংকটের আড়ালে অবৈধ সংযোগের রমরমা বাণিজ্য: অসাধু ঠিকাদার-দালাল চক্র ও গ্যাস অফিসের একাংশের যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে যখন তীব্র গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন, তখন এক শ্রেণির অসাধু ঠিকাদার, দালাল চক্র এবং গ্যাস কোম্পানির কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর বৈধ গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য সেবা থেকে।

অভিযোগ রয়েছে, বৈধভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায়। ফলে একদিকে বৈধ গ্রাহকরা মাসিক বিল নিয়মিত পরিশোধ করেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা গ্যাস পাচ্ছেন, অন্যদিকে অবৈধ সংযোগধারীরা নির্বিঘ্নে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বৈধ গ্রাহকের বিল পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করলেও অনেক প্রভাবশালী গ্রাহকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—আইন কি শুধু বৈধ গ্রাহকদের জন্যই?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে প্রতিটি থানা এলাকায় মাত্র তিন থেকে চারটি অবৈধ গ্যাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার অনুমতি থাকে। কিন্তু এসব অভিযান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের স্থান নির্বাচন অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে দেয় অসাধু ঠিকাদার ও দালাল চক্র। যেসব এলাকায় তাদের আর্থিক সমঝোতা থাকে না, সেসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অন্যদিকে, যেসব স্থানে তাদের প্রভাব রয়েছে, সেখানে অভিযান এড়িয়ে যাওয়া বা লোক দেখানো তৎপরতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অভিযান শেষে রাতে গোপনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা অবৈধ গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে পুনরায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে দেয়। ফলে দিনের বেলায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও রাতের অন্ধকারে আবারও চালু হয়ে যায় সেই একই সংযোগ। এতে অভিযান কার্যত একটি ‘চোর-পুলিশ’ খেলায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে মাসে আনুমানিক ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার গ্যাস ব্যবহার করা হলেও অভিযানে ধরা পড়লে জরিমানা করা হয় মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো। ফলে জরিমানার এই অঙ্ক অবৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো শাস্তি নয়; বরং ব্যবসার খরচ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা একই স্থানে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করায় অসাধু ঠিকাদারদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আর সেই সম্পর্ককে পুঁজি করেই অবৈধ সংযোগের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নিয়মিত বদলি না হওয়ায় দুর্নীতির সুযোগ আরও বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করতে হলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনে বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, বৈধ গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাবেন এবং সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।

তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান আমরা যেখানেই অভিযোগ পাই ওই সমস্ত জায়গায় আমরা অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু তাদের এই কথা সাথে কাজের কোন মিল নেই, অনেক সাধারন মানুষ এবং মিডিয়াকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারা যায় গ্যাস অফিসে কমপ্লেন দিলেও তারা তাদের মনকাঙ্ক্ষিত মতন অবৈধ ঠিকাদারদের ছাড়া কোথাও গ্যাস সংযোগ লাইন কাটে না এবং অভিযান পরিচালনা করে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >