নারায়ণগঞ্জ ।
,

সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্ব অবহেলা, ৪ কর্মকর্তাকে শোকজ

সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের মালপত্র ব্যবহারের অভিযোগে চারজনকে শোকজ করা হয়েছে। ছবি: কালবেলা

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের মালপত্র ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে কাজটির তদারকির দায়িত্ব অবহেলা করায় উপসহকারী প্রকৌশলীসহ চার কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসন। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করা হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তাপুষ্ট রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়‍্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি) প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্যাকেজটি হলো ত্রিমোহনী হয়ে এএনএম ফজলুল করিম রোড থেকে পলিটেকনিকেল রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড ও রামগতি রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন।

কিন্তু সড়কের ম্যাকাডমের জন্য অতি নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেনের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করছেন। ইতোপূর্বে ঠিকাদারকে মৌখিক এবং লিখিত সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কর্ণপাত না করে অতি নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সকল প্রকার কাজ বন্ধ রেখে অতি নিম্নমানের মালামাল সাইট থেকে ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিরোজ আলম নামে স্থানীয় ঠিকাদার কাজটি কিনে নিয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অঙ্গশোভার মালিক। শুরু থেকেই তিনি কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে আসছেন। খোয়ার বদলে রাবিশ এবং ড্রেন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করেছেন। রোববার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন ঘটনাস্থল গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে তদারকিতে দায়িত্ব অবহেলায় উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসক। এছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনকে শোকজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রশাসক। তবে এখনো তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স’র স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে নিম্নমানের মালপত্র সাইট থেকে অপসারণের জন্য বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >