নারায়ণগঞ্জ ।
,

নিজ কার্যালয় থেকেই শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসনের বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান : ডিসি রায়হান কবির

পরিবেশ দূষণ রোধ এবং নারায়ণগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এবার নিজ কার্যালয় থেকেই অভিযান শুরু করছে জেলা প্রশাসন। জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদ ও আঙিনায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সিফাত উদ্দীন।

জেলা প্রশাসক বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা একদিনের কাজ নয়। এজন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের কর্মস্থল ও আবাসন থেকেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা শুরু করতে হবে। জেলা, উপজেলা এবং অধীনস্থ সব দপ্তরে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।আপনাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে অন্যরাও সচেতন হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করবে। সারা দেশে যেন বোঝা যায়, নারায়ণগঞ্জ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও বলেন, নিজের অফিস, নিজের বাসা থেকেই পরিচ্ছন্নতা শুরু করুন। এই দেশ আমাদের, এই মাটির সন্তান আমরা। নগরটিকে বাসযোগ্য করার দায়িত্বও আমাদের সবার। সরকারের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি অফিস, সরকারি আবাসন এবং জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

সভা শেষে জেলার সব সরকারি দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সফল করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেন-নালা পরিষ্কার, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, শীতলক্ষ্যা নদীসহ জেলার খাল-নদী দখলমুক্তকরণ এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা নারায়ণগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি। তবে শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়া সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি, বেসরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী,বিভিন্ন স্কুল কলেজ, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুরু হবে আমার ঘর থেকে, আমার আঙ্গিনা থেকে। প্রতিটি মানুষ যদি নিজ বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সামনে পরিষ্কার রাখেন, তাহলে পুরো শহরই পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদী ও খাল প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জের প্রাণ। এই নদী এবং জেলার খালগুলো দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চলবে। নদী বাঁচলে শহর বাঁচবে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং শিশুর মতো যত্নও করতে হবে।

সভায় প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে নির্ধারিত সময়ে ময়লা সংগ্রহ নিশ্চিত করা, যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে সচেতনতা ও কঠোর অভিযান পরিচালনা, শীতলক্ষ্যা ও অন্যান্য নদী-খাল দূষণমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান এবং জেলাজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও বাজারগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক প্রচার অভিযান চালানো হবে।

আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলায় অন্ততপক্ষে একটি করে ‘মডেল পরিচ্ছন্ন গ্রাম ওয়ার্ড’ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল। এছাড়া জেলার সব উপজেলার ইউএনও, সকল সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রোভার স্কাউটের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সভার শেষে জেলা প্রশাসক উপস্থিত সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >