রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক জামায়াত কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি পাটক্ষেতের আইল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়
নিহত আসাদুল মন্ডল (২৪) কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারী গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ইউনিয়ন জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
মদাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ফিরোজ আহমেদ জানান, রোববার বিকেলে আসাদুল বিলমানুষমারী জামে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাকে অবহিত করেন। এর মধ্যে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আসাদুল তার প্রবাসী ভগ্নীপতির কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চান। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফিরোজ আহমেদ আরও জানান, রাত প্রায় ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তারা কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামালকে বিষয়টি জানান। পরদিন সোমবার সকালে সূর্যদিয়া গ্রামের একটি পাটক্ষেতের পাশে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, আসাদুল শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন এবং তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। নিহতের ফুফাতো ভাই হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আসাদুলের কোনো শত্রু ছিল বলে আমরা জানি না। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না।”
কালুখালী থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেবব্রত সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন জামাল উদ্দীন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।






