নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইভীর বাসায় দেখা করতে যাওয়ার জেরে পিয়নের চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

জামিনে কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার জেরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী টরিক আহমেদ দাবি করেছেন, আইভীর বাসায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

টরিক আহমেদ সিটি করপোরেশনে পিয়ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী এবং পরিচিত হওয়ায় কারামুক্তির পর সাবেক মেয়রকে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাসায় গিয়েছিলেন।

তার দাবি, পরদিন প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং পরে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত বুধবার গভীর রাতে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাসভবনে ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। এরপর থেকেই আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও পরিচিতজন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। সাক্ষাৎকার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক পর্যায়ে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আইভী। দীর্ঘ কারাবাসের পর তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান চাকরিচ্যুতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, আইভীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিকে কারণ হিসেবে মানতে নারাজ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টরিক আহমেদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়ম এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ছিল।

তিনি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনে হাজিরা দেওয়ার পর টরিক অন্যত্র কর্মরত থাকতেন, যার ভিত্তিতেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাবেক মেয়রের বাসভবনের সামনে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ বলছে, এটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাকে কেন্দ্র করে নয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, সাবেক মেয়রের সঙ্গে যে কেউ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারবেন। তবে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা বা সমাবেশের আয়োজন করা হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির আওতায় থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই দেওভোগ এলাকায় চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং একই সাথে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।

ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান (বা মেয়র) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিন মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে নগর পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং জনপ্রিয়তা তাকে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >