পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পরিবহন খাতে বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ সার্কেলের উদ্যোগে জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনালগুলোতে যাত্রী সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়। এ সময় যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া প্আদায় না করা, নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে সচেতন করা হয়।
ঈদ-পরবর্তী যাত্রীসেবার মান বজায় রাখতে মোটর মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং জেলা ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা টার্মিনাল থেকে যানবাহন ছাড়ার আগে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যাত্রীসংখ্যা ও ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছেন।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিআরটিএ কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে চালকদের সচেতনতামূলক ব্রিফিং প্রদান করা হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন থেকে বিরত থাকা ওভার টেকিং নিষিদ্ধ স্থানে, সরু ব্রিজে, অন্ধবাঁকে ওভারটেকিং না করা এবং ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে সড়কে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বিআরটিএর বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব টিম যানজট নিরসন সহ অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ঈদ-পরবর্তী যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও হয়রানিমুক্ত রাখতে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের জাতীয় হেল্পলাইন সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। যাত্রীরা সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য হেল্পলাইনের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে ঈদ-পরবর্তী যাত্রা আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব হবে।







