নারায়ণগঞ্জ । বৃহস্পতিবার
২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলে নাহিদকে কুপিয়ে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ‘সিফাত বাহিনী’র সহিংসতা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পুলিশের ওপর হামলা ও বিরিয়ানির দোকানে লুটতরাজের পর এবার ফিল্মি স্টাইলে চলন্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ও কুপিয়ে সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলে নাহিদকে রক্তাক্ত করে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এই দুর্ধর্ষ চক্র। 
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নাসিক ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বউ বাজার এলাকায় প্রকাশ্য এই পৈশাশিক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলে নাহিদ ৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন।

 
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাহিদ চলন্ত অবস্থায় থাকাকালীন সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শেখ সিফাতের নেতৃত্বে ৪-৫ জন হামলাকারী তাঁকে পুনরায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর তাঁর সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে সন্ত্রাসীরা বীরদর্পণে এলাকা ত্যাগ করে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ‘সিফাত বাহিনী’ই গত কয়েক দিন আগে চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ৯৯৯-এর কলে আসা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নিয়েছিল। এরপর তারা স্থানীয় ‘ঢালী বিরিয়ানি হাউজে’ হামলা চালিয়ে ক্যাশ লুট করে। একের পর এক জঘন্য ও দুঃসাহসী অপরাধ করার পরও সিফাত ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার না হওয়ায় তারা এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।


সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিফাত বাহিনী এখন বন্দরের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা করার পরও তারা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং দিনে-দুপুরে আমার ছেলেকে কুপিয়ে টাকা নিয়ে গেল। সিসিটিভি ফুটেজে সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।


খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ও ডিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের একটি বিশেষ দল সিফাত বাহিনীর আস্তানায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, সিফাত বাহিনীর সকল সদস্যকে গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >