বিশ্বকাপটাই বিক্রি করে দেওয়ার ছক কষছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একাধিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি এমনটাই।বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একাংশ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে বিশ্বফুটবলে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফিফার সেই পরিকল্পনার বিরোধিতায় সরব উয়েফা। এমনকি প্রয়োজন হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারিও শোনা যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলমহলে। এই আবহেই প্রথমবার মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি।
তার দাবি, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গোটা বিষয়টি কেবল আলোচনার স্তরেই রয়েছে। ভিডিওবার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস একটি প্রস্তাব মাত্র। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি সুযোগ। কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না।’
অনুযায়ী, ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস’ নামে একটি পৃথক সংস্থা গড়া হতে পারে। বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে তাদের হাতে।
সেই সংস্থার অন্তত ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। ফিফার আশা, এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা তোলা সম্ভব হবে। সেই অর্থ ‘ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামে’র মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোর উন্নয়নে খরচ করা হবে।
এই পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গেয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘গোটা বিশ্বে ফুটবলের উন্নতির বিরাট সুযোগ রয়েছে। তবে আবারও বলছি, এটি এখনো প্রস্তাব। শুধু ফিফা চাইলে হবে না। ২১১টি সদস্য দেশের মতামত প্রয়োজন। পরিকল্পনা কার্যকর হলে ফুটবলে আরো বেশি আর্থিক বিনিয়োগ আসবে। তার সুফল পাবে গোটা বিশ্বফুটবল।’
জানা যায়, এই প্রকল্পে ফিফাকে পরামর্শ দিচ্ছে জেপি মর্গ্যান। নতুন সংস্থার শীর্ষ পদে বসতে পারেন জোশুয়া কুশনার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ভাই।
তবে ফিফার এই ভাবনার তীব্র বিরোধিতা করেছে উয়েফা। তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক মালিকানার অংশ বিক্রি হলে ফুটবলের মৌলিক চরিত্রই বদলে যাবে। উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিফা এমন একটি সীমারেখা পার করতে চাইছে, যা পার হওয়া উচিত নয়। ফুটবলের আত্মা বিক্রি করা যায় না। আমরা কেউ ফুটবলের মালিক নই। ফুটবল ফিফার সম্পত্তি নয়। তাই ওরা কিছুই বিক্রি করতে পারে না।’
অন্যদিকে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পত্তি নয়।’
ইতিমধ্যেই ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থাকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে উয়েফা। ‘ইএসপিএনে’র দাবি, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে পরবর্তী বিশ্বকাপ বয়কটের পথেও হাঁটতে পারে ইউরোপের দেশগুলো।
ঘটনাচক্রে, আগামী বিশ্বকাপের আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো। তার মধ্যে স্পেন ও পর্তুগাল উয়েফার সদস্য। ফলে ফিফা ও উয়েফার এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।







