বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ের বিদায় হয়ে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালেই। তবে নিজের দলের স্বপ্নভঙ্গ হলেও টুর্নামেন্টের বাকি লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকতে চাইছেন না আর্লিং হালান্ড। বরং সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন।
ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে হালান্ডকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সিটির সতীর্থদের কেউ বিশ্বকাপ জিতুক এটা তিনি চান কি না। উত্তরে কোনো দ্বিধা না রেখেই তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কেন নয়? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স কিংবা স্পেন; সব দলেই তো ম্যানচেস্টার সিটির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছে। তাই অবশ্যই আমি চাই তারা সফল হোক।’
এরপরই নিজের ইংল্যান্ড-সমর্থনের পেছনের ব্যক্তিগত কারণও তুলে ধরেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার, ‘অবশ্যই আমি চাই ইংল্যান্ড ভালো করুক। আমি তাদের সমর্থন করছি। ছোটবেলায় নরওয়ের জার্সি পাওয়ার আগেই আমার কাছে ইংল্যান্ডের একটি জার্সি ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতি আমার আলাদা টান রয়েছে। দেশটাও আমার খুব ভালো লাগে, আর তাদের জার্সিটাও দারুণ।’
হালান্ডের এই মন্তব্য অনেককেই অবাক করেছে। কারণ, কয়েক দিন আগেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিওনেল মেসির গোলের প্রশংসা করে একাধিক পোস্ট করেছিলেন। সেই কারণে অনেকের ধারণা ছিল, নরওয়ে বিদায় নেওয়ার পর হয়তো তিনি আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জন্মভূমির টানেই ইংল্যান্ডের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি।
আসলে হালান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক নতুন নয়। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের লিডসে তাঁর জন্ম। সে সময় তাঁর বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড খেলতেন লিডস ইউনাইটেডে। যদিও তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নরওয়েতে ফিরে যান তিনি, তবুও ইংল্যান্ডের প্রতি সেই শৈশবের আবেগ আজও রয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম সম্পর্কেও কথা বলেন হালান্ড। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে একসময় তাঁর সতীর্থ ছিলেন বেলিংহাম। হলান্ডের ভাষায়, বেলিংহামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি মোটেও বিস্মিত নন; বরং তাঁকে ঘিরে হওয়া সমালোচনাই বেশি অবাক করে। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড ও রিয়াল মাদ্রিদ দুই দলই ভাগ্যবান। জুডের মতো একজন ফুটবলারকে বিশ্বের যেকোনো দলই নিজেদের দলে পেতে চাইবে।’
আগামী ১৬ জুলাই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। নরওয়ে বিদায় নিলেও সেই ম্যাচে গ্যালারির বাইরে অন্তত একজন তারকা সমর্থক থাকছেন ইংল্যান্ডের পক্ষে, তিনি আর্লিং হালান্ড।







