নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বড় চ্যালেঞ্জ !

নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে দেশে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ নিয়ে সব চাইতে বেশি আলোচনা চলছে সর্বত্র। কারন দেশের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ন আসন হিসেবে এই আসনটি ব্যাপক পরিচিত। এই আসনটি আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় বড় দলের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ন। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জকে রাজনীতির সূতিকার বলেও অনেকে মনে করেন। ঢাকার রাজনীতির সাথে এই জেলার রাজনীতি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি ২৩৭ টি আসনে প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছেন। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি প্রার্থী তালিকা দিয়েছেন। তবে বাদ রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ । আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। আর এ আলোচনায় উঠে এসেছে জমিয়তে ওলামা ইসলাম বাংলাদেশ তথা বিএনপির শরীক দলের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাশেমীর নাম। যেহেতু বিএনপি এই আসনটি বাদ রেখেছেন সেহেতু এই আসনটিতে কাশেমীর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অপরদিকে, এ আসনটি নিয়ে বিএনপির দলীয় নীতি নির্ধারকরা নানা রকম জল্পনা-কল্পনা করছেন বলেও বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড নতুন করে ভাববেন বলেও বিভিন্ন কথা চাউর রয়েছে। তারেক রহমান নিজে কয়েকদিনের মধ্যে এই আসনটিতে জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করবেন বলেও একটি মহল দাবী করেছেন। তবে, অপর একটি সূত্রের দাবী কাশেমীকেই শরীক দলের প্রার্থী করা হবে। এই আসনটিতে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার। জোটের প্রার্থী কাশেমী হলে তার সাথে মাওলনা আব্দুল জব্বারের সাথে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এরমধ্যে যদি স্বতন্ত্র থেকে স্থানীয় পরিচিত মুখ কেউ নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে কাশেমীর কপাল পুড়তে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। কারন হিসেবে জামায়াতের মাওলানা আব্দুল জব্বার ও মুফতি মুনির হোসেন কাশেমী উভয়েই নতুন মুখ। স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি হেভিওয়েট হয় সেক্ষেত্রে অনেকটা বেগ পেতে হবে কাশেমীকে ও জব্বারকে। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত কর্মীরা মুখে মুখে মেনে নিলেও এই আসনের অনেক পোড় খাওয়া নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, যারা চেয়েছিলেন দল থেকে কাউকে মনোনয়ন যেনো দেয়া হয়। কিন্তু শরীকের কারনে বিএনপিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। আর সে কারনেই মূলত কাশেমীর পক্ষে থাকতে হবে দলীয় নেতাকর্মীদের। কাশেমীর পক্ষে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করলে দল ঐ নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে নেবে কঠোর সিদ্ধান্ত। কিন্তু গোপনে যদি দলের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে সে ক্ষেত্রে কাশেমীর জন্য তা হবে পরাজয়ের কারন।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক যদি শরীক দলের প্রার্থীকে তার নিজস্ব দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হয় তাহলে হীতে বিপরীত হবে অনেকের। আর এ অঘটন থেকে বাদ যাবে না বিএনপিসহ অন্য দলের শরীক দলগুলোরও। যদি পূর্বের নির্দেশনা ঠিক থাকে তাহলে মনির হোসেন কাশেমীকে খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। আর এটাই হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সুযোগটি হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীই যেই কেউ হাতিয়ে নেবেন ।

সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একজন সাবেক সাংসদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা সোমবার সন্ধ্যা থেকেই চাউর হয়েছে। এতে বিএনপির অনেকেই আশায় বুক বাঁধছেন। তবে কেউ প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ন ভিন্ন বলেও দাবী অনেকের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >