নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী আলোচনা সভায় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন
‘সোনারগাঁও বিএনপির ঘাঁটি, এখানে বিএনপির বিজয় না হলে আমার সম্মান যাবে’

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, এদেশের এমন কোনো শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নেই যাকে দলীয়করণ করা হয়নি, যেখানে অযোগ্য ব্যক্তিদের বসিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত ‘নির্বাচনী আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম অর্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কাল ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের হারানো ভোটের অধিকার ফিরে পাবে এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার খাতায় সবাইকে পাশ নম্বর দিতে বলা হতো এবং যারা নাম্বার দিতে চাইতো না তাদের বলা হতো ‘নাম্বার কি আপনার বাবার?’

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সোনারগাঁয়ের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর তিনি বাবার নির্দেশে শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিয়ে কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুরে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে সুখেরটেক গ্রামে এসে সেখান থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

সোনারগাঁও থেকে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির একাধিক যোগ্য নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সোনারগাঁয়ে যারাই মনোনয়ন পাবে আমরা তাদের সাথেই কাজ করবো। এখানে অনেক যোগ্য নেতা আছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। এছাড়া বর্তমানে সোনারগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অলিলুর রহমান আপেল, সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর এবং মুজাহিদ মল্লিক শাহেদ ও ইমতিয়াজ আহমেদ বকুলও মনোনয়ন প্রত্যাশী।’ তিনি বলেন, এত যোগ্য প্রার্থীর উপস্থিতি প্রমাণ করে সোনারগাঁও বিএনপির ঘাঁটি। আমি সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সে হিসেবে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করা আমার কর্তব্য। কারণ এখানে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হলে অনেকের চেয়ে আমার সম্মান বেশি নষ্ট হবে। আমি চেষ্টা করবো এই আসনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে।’ পরিশেষে তিনি নিজের জন্য ভোট না চেয়ে বরং যিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন তার সঙ্গেই কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করার আহবান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >