মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কিস্তির চাপ ও পারিবারিক মানসিক অশান্তির জেরে তিন সন্তানের জননী জিলহজ আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ভোর রাতে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের পুরান বাউশিয়াস্থ আব্দুল হাসানের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ জিলহজ আক্তার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পরচঙ্গা গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে। স্বামী কামরুল ইসলাম (৩৫) ঐ এলাকার বড় বাড়েরা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, নিহতের স্বামী একজন বাবুর্চি, স্থানীয় একটা রেস্টুরেন্টে ৮ বছর ধরে কাজ করেন, মাত্র একসপ্তাহ আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আসেন, তাদের ছোট ছোট দুটো মেয়ে একটি ছেলে রয়েছে।
স্বামী কামরুল হাসান বলেন, রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাসায় ফেরার পর স্ত্রী কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে রাত ৩টায় ঘুমিয়ে পড়ি, ফরজ নামাজের আযানের পর বড় মেয়ে ওয়াশ রুমে যাওয়ার সময় আমাকে চিৎকার করে ডাকলে উঠে গিয়ে দেখি রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে আমার স্ত্রী।
নিহতের বড় ভাই ইব্রাহিম হোসেন বলেন, কিস্তির টাকা পরিশোধ করা নিয়ে গত কিছুদিন যাবৎ আমার বোন মানসিকভাবে প্রচণ্ড হতাশায় ছিলেন, গত সপ্তাহে বোন জামাই তাকে এখানে নিয়ে আসে, আমাদের কোন অভিযোগ নাই শুধু দুর্ভাবনায় আছি তার রেখে যাওয়া ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার উপ পরিদর্শক মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয়দের ৯৯৯ নম্বরে ফোনের সূত্রে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি ও স্বামী কামরুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। নিহতের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে গলায় ফাঁসের দাগ স্পষ্ট ছিল।
বিষয়টা নিয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। স্বামীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।








