নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,
২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোল্লাকান্দিতে অস্ত্র আছে, সমন্বিত অভিযান নেই

মুন্সিগঞ্জের আলোচিত ইউনিয়ন মোল্লাকান্দি। সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এর অবস্থান। গেল কয়েক বছর ধরেই হত্যা-সংঘর্ষ-ককটেল ফাটিয়ে বিস্ফোরণ এই এলাকার নিত্যনিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় ১ বছর কিছুটা শান্ত থাকলেও ফের উত্তপ্ত মোল্লাকান্দি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল শুরু না হতেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে (৩ নভেম্বর, তুহিন দেওয়ান) খুন হয়েছে দুইটি। দুটোই একই কায়দায়- অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে। কিন্তু এসব ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান নেই।

সবশেষ আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে গুলিতে খুন হন চরডুমুরিয়া এলাকার আরিফ মীর। নিহতের খবর প্রচার হওয়ার পর সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার সময়কার বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভারি ভারি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণ ও মহড়া দিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছেন অস্ত্রধারীরা। এসব অস্ত্র যে বৈধ নয় তা নানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে অবৈধ কোন অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি? এ প্রশ্ন শুধু আজকেরই নয়। প্রতিটি ঘটনার পরই এরকম প্রশ্ন আসছে জনমনে।

মুন্সিগঞ্জের মোল্লাকান্দির স্থানীয় নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা মনে করেন, এই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর সমন্বিত অভিযান। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত মোল্লাকান্দিতে র‍্যাব, পুলিশসহ বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা (যা আজ, ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বলবৎ আছে) নিয়ে মাঠে থাকা সেনাবাহিনীর সমন্বিত অভিযানে দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং জড়িত প্রভাবশালী গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা গেলে স্বস্তি ফিরবে এলাকায়।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, কেবলমাত্র অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে সাময়িক শান্তি এলেও, যারা এই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সংঘর্ষকে পৃষ্ঠপোষকতা করে-সেইসব মূল প্রভাবশালী গডফাদারদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে তবেই এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরবে। সংঘাত সৃষ্টিকারীরা যে রাজনৈতিক (বিএনপি/আওয়ামী লীগ) পরিচয়ই বহন করুক না কেন, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত হবে এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা এসব অপরাধীর সংশ্লিষ্টতা ছিন্ন করা।

তারা আরও উল্লেখ করেন, সংঘর্ষের ভিডিওতে যে ধরনের ভারী ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে যে এই চরাঞ্চলে অস্ত্রের একটি বড় মজুত রয়েছে। তাই অভিযানকে প্রতীকী না রেখে, ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে এই মজুত সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা এবং সেনাবাহিনী বা র‌্যাবের একটি স্থায়ী ক্যাম্প/ফাঁড়ি চরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপন করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, যারা এসব সংঘাতে ঘরবাড়ি হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >