রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মহাসড়কের তিনটি লেনজুড়ে শরীয়তপুর পরিবহনের বাস দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সুপিয়া গার্মেন্টস থেকে পুলিশ বক্স পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বাসগুলো এভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে একাধিক লেনজুড়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে, সেই সড়কের তিনটি লেন বাসের দখলে থাকলে যান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা অবশিষ্ট থাকে না। ফলে অন্যান্য যানবাহনকে চলাচলের পথ খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তাঁদের ভাষ্য, মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সড়কের ব্যবহারযোগ্য অংশ কমে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক পারাপার ও চলাচলের সময় পথচারীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তিন লেনজুড়ে বাস, প্রশ্ন তদারকি নিয়ে
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তিনটি লেনজুড়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধভাবে সড়ক দখল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, মহাসড়ক যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা। সেখানে দীর্ঘ সময় বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হলে সড়কের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে একাধিক লেন দখল হয়ে থাকলে অন্যান্য যানবাহনের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়। এতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাস রাখার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলে সেগুলো সেখানে রাখা উচিত। আর কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের লেন ব্যবহার করে বাস দাঁড় করিয়ে রাখলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সড়কের ওই অংশে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশি যোগসাজশের অভিযোগ, যাচাইয়ের দাবি
মহাসড়কের তিনটি লেনজুড়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার সুযোগ কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য অর্থের বিনিময়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার সুযোগ করে দিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি যাচাই না করে কাউকে দায়ী করা সমীচীন হবে না।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
যাত্রাবাড়ীর মতো ব্যস্ত এলাকায় সড়কের লেন দখল করে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, মহাসড়কের চলাচলযোগ্য অংশ উন্মুক্ত রাখা এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মহাসড়কের তিনটি লেন যদি বাসের দখলে থাকে, তাহলে অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে কীভাবে? এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগটি যাচাই করে সড়কের প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
তাঁরা আরও বলেন, শুধু একবার অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। নিয়মিত নজরদারি, নির্ধারিত স্থানে বাস রাখার ব্যবস্থা এবং সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সুপিয়া গার্মেন্টস থেকে পুলিশ বক্স পর্যন্ত মহাসড়কের তিনটি লেন দখলে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ তদন্ত, সড়ক দখলমুক্ত করা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।




