বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মোতাহার হোসেন। গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মোতাহার হোসেন ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ এলাকার মৃত সামসুদ্দিন আহমেদের ছেলে।
তবে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফতুল্লার রুশেন হাউজিং, আলীগঞ্জ, তক্কারমাঠ ও আশপাশের এলাকায় জমি কেনাবেচা নিয়ে মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে জমির মালিকানা ও বিক্রয়সংক্রান্ত জটিলতা, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগ এবং দলিলপত্র নিয়ে বিরোধ।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মোতাহারের নিজস্ব কিছু পৈতৃক সম্পত্তি থাকলেও জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এলাকায় তার বিরুদ্ধে নানা সময়ে অসন্তোষ ও সমালোচনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রুশেন হাউজিং, আলীগঞ্জ ও তক্কারমাঠ এলাকায় মোতাহার হোসেনের নামে থাকা বা তার মাধ্যমে বিক্রি হওয়া জমির রেজিস্ট্রি দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি অফিসের রেকর্ড এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য পরীক্ষা করলে অভিযোগগুলোর বাস্তব ভিত্তি বেরিয়ে আসতে পারে।
অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্তে জমি-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা মামলা উঠে আসে কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে পরিষ্কার হতে পারে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মোতাহার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলতেন। প্রভাব খাটিয়ে বিরোধীয় জমি জবর দখল করতেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মোতাহারকে বৈষম্য বিরোধী মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ।




