নারায়ণগঞ্জ ।
,

শাহজালাল মাজারের দানবাক্স খুলল ৩৪ দিন পর, চলছে টাকা গণনা

শাহজালাল (রহ.) মাজারে স্থাপিত নতুন দানবাক্স খোলার পর সর্বসাধারণ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে টাকা গণনা চলছে।

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে স্থাপিত নতুন দানবাক্স প্রায় ৩৪ দিন পর আবারও খোলা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়।

টাকা গণনার বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক মাসের ব্যবধান হয়েছে। এবারও সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা করা হচ্ছে। এতে অর্থ গণনা নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই প্রকাশ্যে টাকা গণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাজারের মুয়াল্লি ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। সাংবাদিকরাও বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।’

টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকি করতে দরগাহ প্রাঙ্গণে উপস্থিত আছেন- সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাজারের মুয়াল্লি ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর এর আগে দুই দফা টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথমবার দানবাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় গত ২২ জুন তা খুলে গণনা করা হয়। সেদিন পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। এরপর দ্বিতীয়বার ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এসব অর্থের মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

দুই দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা। এবার প্রায় ৩৪ দিন পর দানবাক্স খোলায় আগের দুই দফার তুলনায় অর্থের পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টাকা গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবার মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে মাজারের আয়-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা চলছে। কমিটি গঠনের দেড় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মাজার পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত কাঠামো বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

বিশেষ কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কমিটি কাজ করছে এবং নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগে কমিটির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে না। দ্রুতই এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গত জুনে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। গত ১২ জুন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এর কয়েক দিন পর, ১৮ জুন তার নির্দেশে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। নতুন দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন এটিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তী সময়ে ২৬ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

এক মাসের মধ্যে মাজারের পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৬ জুন থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ্যে আসেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >