নারায়ণগঞ্জ ।
,

সেনবাগে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে বাড়িওয়ালার সংবাদ সম্মেলন

মো. আলাউদ্দিন লিংকন, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালীর সেনবাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. সহিদ উল্লাহ নামে এক বাড়িওয়ালা। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার ও তার শ্বশুর পীর সাহেবের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সহিদ উল্লাহ জানান, তিনি সেনবাগ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নগুনি গ্রামের ‘মা মঞ্জিল’ ভবনের মালিক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মো. আবু তাহের নামে এক ব্যক্তিকে ওই ভবনে বাসা ভাড়া দেন।

সহিদ উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পর তিনি দেখতে পান, তার বাসায় কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে আছেন। এ সময় চকিদার বাড়ির ওবায়দুল হকের ছেলে খুরশিদ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর পাটোয়ারি বাড়ির কাশেমের ছেলে ফরহাদ ও খুরশিদ তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাসার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ১০-১৫ জন যুবক মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু করে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাকে ও তার শ্বশুরের সামাজিক সম্মানহানি করার হুমকি দেওয়া হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা না দিলে নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে দাবি করেন সহিদ উল্লাহ।

সহিদ উল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার পেছনে মিজি বাড়ির বকুর ছেলে জহির নামে এক ব্যক্তির ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ঘটনার সময় জহির সেখানে উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে তিনি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে সহিদ উল্লাহ প্রশ্ন তুলে বলেন, তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলো না। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত না করে কেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার ও সম্মানহানিকর কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে সহিদ উল্লাহ এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >