নারায়ণগঞ্জ ।
,

হাসপাতালে রোগী তোলার মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, পুড়ল ৯ মোটরসাইকেল

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে রোগী তোলার সময় একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটির পাশে থাকা ৯টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের গেটের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে থেকে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খোলার পর হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো অ্যাম্বুলেন্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশে থাকা মোটরসাইকেলগুলোতেও আগুন ধরে যায়।

আগুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদুল ইসলাম দগ্ধ হন। তার মুখের দাড়ি পুড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চলে যান। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করা ওই রোগীর কোনো ক্ষতি হয়নি।

এসময় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের নিচতলার শিশু ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগের রোগী এবং স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও ৯টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। তবে হাসপাতালের রোগীদের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংসদ সদস্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আগুন লাগার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এদিকে হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনের জন্য অপেক্ষায় থাকার পরও কেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছিল— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী বাগেরহাট নার্গিস নার্সিং ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র আল-আমিন জানান, অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগার সময় আমি হাসপাতালের পুকুর ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চালক দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স থেকে বেরিয়ে হাসপাতালের পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রওনা দেন।

প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের চালক ফরিদুল ইসলামকে ঢাকায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি ফরিদকে নিয়ে ঢাকার পথে আছেন এখন, আগুনে মুখ দুই হাত দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

বাগেরহাট জেলা ২৫০ শষ্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আগুনে প্রাইভেট একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং তাদের স্টাফসহ চিকিৎসাপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের মোট ৯টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। হাসপাতালের আউটডোর আগুনের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে আউটডোরে চিকিৎসা সেবা দিতে হলে জরুরিভাবে মেরামতের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >