ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৫ বছরের শিশু তাবাচ্ছুম তোয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং লাশ গুমের অপরাধে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের শিশু তাবাচ্ছুম তোয়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ওইদিনই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে প্রতিবেশী যুবক আবু তাহেরকে গ্রেফতার করে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ গত ২৬ মে আবু তাহেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মাত্র ৫ কার্যদিবসে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে ঘটনার চার মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং মরদেহ গুমের অপরাধে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে।
ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির।






