সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি খালের দখল ও মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির হামালায় জামায়াতের নেতাকর্মীসহ আটজন আহত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সবাই শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতরা হলেন-স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামসহ বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন, বিএনপি কর্মী কবির হোসেন, শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ ও আরাফাত হোসেন, আক্তার হোসেন, নাজমা খাতুন, মোমিন মোড়ল ও লায়লা বেগম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সংক্রান্তির খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ নেতাকর্মী মাছ শিকারে বাধা দিলে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে কমপক্ষে সাত থেকে আটজন আহত হন। পরবর্তী সময়ে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে বিএনপির উত্তেজিত কিছু কর্মী শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ধাওয়া করে রাস্তা থেকে ধরে মারধর করে।
সংঘর্ষের বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, চৈত্র মাস শেষ হতেই উক্ত খালের ইজারা মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে সরকার তাকে ইজারা না দেওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল সেখানে মাছ চাষ করছিল। এলাকার দরিদ্র মানুষরা শুক্রবার উক্ত খালের মাছ শিকারে যাওয়ার পর আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় নিজেদের চারজন আহত হয়েছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের কর্মী আব্দুল্লাহ সাদকে কুপিয়েছে বিএনপির কিছু কর্মী।
অভিযোগের বিষয়ে আজহারুল জানান, মেয়াদ শেষ হলেও তিনি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন। আগে থেকে খালে মাছ ছাড়ায় তিনি বাধা দিয়েছিলেন। তবে জামায়াত নেতা শাহিনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাদের আটজনকে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপির নেতারা আজহারুলকে বিএনপির সমর্থক বলে জানিয়েছে। তার ইজারা নেওয়া খালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মাছ ধরতে গেলে বাধার মুখে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের কুপিয়েছে।’
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় দুজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। স্থানীয় সরকারি একটি খালের দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন দলের অনুসারী।







