নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,
২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানী তেল পরিবহন সেবা বন্ধ, আগামীকাল থেকে ট্যাংকলরী মালিকদের ধর্মঘটের ঘোষণা

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য অচলাবস্থা ঘনিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশন একযোগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে পাঠানো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে জানিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হলে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে তেল পরিবহন সেবায় ট্যাংকলরী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এটি শুধু প্রতীকী কর্মসূচি নয় প্রয়োজন হলে ২০ নভেম্বর থেকে শুরু করে ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কিংবা তারও বেশি সময় ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সেবা স্থগিত রাখা হবে।

ট্যাংকলরী মালিকরা জানান; ট্রাক,কাভার্ডভ্যান ও বাসের ন্যায় অন্যান্য মালামাল পরিবহন না করায় ট্যাংকলরীর ইঞ্জিন এর ক্ষয় কম হয়,এবং আয়ুষ্কাল বেশি হয় তাই ২৫ বছরেরও বেশি পুরাতন ট্যাংকলরীর রূটপারমিট দিতে হবে।একই সাথে অন্যান্য মালবাহী মোটরযানের মতো ট্যাংকলরীর ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করতে হবে। রূটপারমিট না থাকার কারনে হাইওয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ট্যাংকলরী থামিয়ে অযৌক্তিক জরিমানা করছে,ফিটনেস ও টেকনিক্যাল পরীক্ষার নামে দুর্নীতি ও হয়রানি চলছে,মাল পরিবহন সংক্রান্ত পুরোনো বিধিমালা বাস্তবতায় কাজ করছে না,সারাদেশের ডিপো ও লোডিং স্টেশনে অসম আচরণ ও বৈষম্য রয়েছে, এবং ২৫ বছর আগের সমস্ত ট্যাংকলরী বাতিলের সিদ্ধান্ত অবাস্তব।

তারা আরো জানান, যদি ২৫ বছরের পুরানো ট্যাংকলরীকে রূটপারমিট না দেয়া হয় তাহলে বাংলাদেশের ৬০% থেকে ৭০% ট্যাংকলরী বন্ধ হয়ে যাবে।ট্যাংকলরীর ইকোনমিক লাইফ এবং ২৫ বছরের পুরাতন ট্যাংকলরীর আন্তজেলা রূটপারমিট এর ২ মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা আর করা হয় নি এবং একই সাথে নবায়ন প্রদানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।যার ফলে প্রতিনিয়ত কাগজপত্র পরীক্ষার নামে ট্যাংকলরী চালকদের পুলিশের হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে এবং প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ ট্যাংকলরী অচল হয়ে পড়েছে।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশন ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন এবং এই দাবী না মানা পর্যন্ত সারা দেশে জ্বালানী তেল সরবরাহে ট্যাংকলরীর পরিবহন সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

এসোসিয়েশনের দাবীসমুহ হলো,১. ট্যাংকলরী ভাড়া বৃদ্ধিতে সেবা গ্রহণকারী কর্তৃক ভ্যাট প্রদানের ঘোষণা গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।২. সকল ট্যাংকলরীর জন্য আন্তজেলা রূটপারমিট এবং ফিটনেস প্রদান করতে হবে ।৩. ট্যাংকলরীর ইকোনমিক লাইফ ৩৫ বছর করতে হবে ।৪. হঠাৎ করেই বাড়িয়ে দেয়া আয়কর ১২০০০ থেকে ৩০০০০ টাকা করার গেজেট বাতিল করতে হবে।৫. ট্যাংকলরী চালকদের দীর্ঘদিনের হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স যোগ্যতার ভিত্তিতে হেভী লাইসেন্স এ দ্রুত প্রদান কর‍তে হবে। এবং ৬. ফিটনেস, লাইসেন্স ও কাগজপত্র পরীক্ষার নামে ট্যাংকলরীর চালকদের হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশের অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

দফায় দফায় যে চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে প্রতিটি চিঠিতেই একই সুরে সমস্যা সমাধানে এসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করে গেছেন। এসোসিয়েশন বারংবার আলোচনার অনুরোধ করলেও কর্মকর্তারা ধীরগতি দেখিয়েছেন। সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধান বা যৌথ বৈঠক না হওয়ায় ট্যাংকলরী মালিকরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।বিভিন্ন চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,“এ অবস্থায় ট্যাংকলরি মালিকদের পক্ষে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা আর সম্ভব নয়।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে দেশের প্রায় ৮৫% জ্বালানি পরিবহন ট্যাংকলরীর ওপর নির্ভরশীল।পরিবহন বন্ধ হলে কয়েক দিনের মধ্যেই পেট্রোল–ডিজেল,অকটেনসহ সকল প্রকার জ্বালানী তেল এর সংকট দেখা দেবে।বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, পরিবহন, কৃষি সব খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে।

চিঠিতে এসোসিয়েশন এর সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্পষ্ট করে বলেছেন,“আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়া তেল পরিবহন কোনো অবস্থাতেই স্বাভাবিক হবে না। তিন পক্ষ সরকার, প্রশাসন ও বিপিসি যৌথভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান না করলে সংকট দীর্ঘায়িত হবে।”

বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্ত ছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্প–কারখানা সবাই তাকিয়ে আছে আলোচনার অগ্রগতির দিকে।বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে ট্যাংকলরি মালিকদের এই ঘোষিত ধর্মঘট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >