বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারের ভর্তুকিমূল্যের সার সরবরাহ ও পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত আলীগঞ্জ সার ঘাট। নৌযান থেকে সার খালাস, সঠিক ওজনে বস্তাবন্দি এবং পন্যবাহী গাড়ী বোঝাই করে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ঘাটের শত শত শ্রমিক। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা কারণেই বেশ গুরুত্ব বহন করছে এই ঘাটটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একসময় নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী সার ঘাটে লোড-আনলোডের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও নানা জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগের পর বিকল্প হিসেবে আলীগঞ্জ ঘাট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পর থেকেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আলীগঞ্জের এই সার ঘাটটি।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী আলীগঞ্জ ঘাটে দিনের শুরু থেকেই চালু হচ্ছে কর্মযজ্ঞ। নদীর তীরে নোঙর করছে পণ্যবাহী নৌযানগুলো। যেখান থেকে সার খালাসে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ঘাটের শত শত শ্রমিকরা। কারও কাঁধে বস্তা, কেউ আবার সার নিয়ে যাচ্ছেন নির্ধারিত স্থানে। ঘাটজুড়ে সুশৃঙ্খলভাবে চলছে সার খালাস, বস্তাবন্দি ও পরিবহনের কাজ।
দৃশ্যমান কর্মযজ্ঞ বলছে, সার সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধীরে ধীরে প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে আলীগঞ্জ ঘাট।
বিশেষ করে সরকারি ভর্তুকিমূল্যের সার সরবরাহ ও পরিবহনে এই ঘাটের ভৌগলিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ভৌগোলিক দিক থেকে বুড়িগঙ্গার পূর্ব তীরে অবস্থিত আলীগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অঞ্চল।
ঘাটের পশ্চিমে নদীপার হলেই ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের অবস্থান। আর উত্তরে নদীপথ ধরে অল্প সময়েই পৌঁছানো যায় রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ নৌ-টার্মিনাল এলাকায়। আবার দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জের কৃষিপ্রধান অঞ্চল বক্তাবলী ও আলীরটেক সহ রয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জের অবস্থান।
ফলে সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথেও স্বল্প সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সার পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই আলীগঞ্জ ঘাট থেকে। এতে সড়ক পথের অতিরিক্ত যানজট এড়িয়ে নৌ-রুটে পণ্য পরিবহনের নানা সুবিধাও মিলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সার খালাসের পর তা বস্তাবন্দি করা, অস্থায়ীভাবে রাখা এবং পরবর্তী পরিবহনের জন্য ঘাট এলাকায় রয়েছে পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থাও । সরেজমিনে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় জায়গা থাকায় সার বস্তাবন্দি করে তা সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে। এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক।সরেজমিনে আরও দেখা যায়, নদীপথে আসা সার আলীগঞ্জ থেকে আবার সড়কপথে যাচ্ছে বিভিন্ন গুদাম ও গন্তব্যে।
আলীগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনের মাধ্যমেও সহজেই সার পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে নৌযান থেকে খালাসের পর যথা সময়ের মধ্যেই তা বোঝাই করে সরবরাহের জন্য ছুটে চলছে অসংখ্য পণ্যবাহী গাড়ি।
দিন-রাত চলছে সার খালাস ও পরিবহনের কাজ। কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের। ন্যায্য পারিশ্রমিকে পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়ার পাশাপাশি নৌ ও সড়ক পথে পণ্য পরিবহনের সহজ সুযোগ থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছেও ঘাটটি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই কর্মচাঞ্চল্যের মধ্যেই উঠেছে ভিন্ন অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর সংলগ্ন পুরোনো সার ঘাটে অনিয়ম ও অবৈধ মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে যুক্ত একটি অসাধু মহল আলীগঞ্জ ঘাটকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সার ঘাট ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা আড়াল থেকে এই চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি ঘাটের ইজারাদার মোকাররম সর্দারকে নিয়েও গণমাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়ে আলীগঞ্জ সার ঘাটের ইজারাদার মোকাররম সর্দার বলেন, আমি আলীগঞ্জ ঘাটের ইজারাদার। আমার কাজ হলো ইজারার শর্ত মেনে সেবা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত টোল আদায় করা। এক্ষেত্রে শুধু সার নয় বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানাবিধ বৈধ পণ্যবাহী নৌযান আমার ইজারাকৃত ঘাটে আসে এবং লোড-আনলোড হয়। কিন্তু সার নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে একটি চক্র আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি তো জোর করে সারের জাহাজ টেনে আনছি না। ঘাটে আসা জাহাজ বা সার তো আমার নয়। এই ঘাটে যদি সার খালাস নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তাহলে এটার ব্যাখ্যা তো কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে যে, কি কি কারণে এই ঘাটে সার খালাস করা হচ্ছে। এটা তো আমার সাবজেক্ট না। আমার সাবজেক্ট হলো ইজারাকৃত ঘাট পরিচালনা করা এবং নৌ-কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি ও নীতিমালা অনুযায়ী ঘাট ব্যবহারের নির্দিষ্ট টোল আদায় করা। আর যেহেতু আমার লেবার নিয়োগের ব্যবসা রয়েছে, সেহেতু ন্যায্য চুক্তির ভিত্তিতে আমি লেবার খাটিয়ে থাকি। এটা শুধু আলীগঞ্জ সার ঘাটই নয় বরং দেশের প্রথম সারির ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর সাথেও আমার লেবার সংক্রান্ত ব্যবসা চলছে। আমি মনে করি, একটি কুচক্রি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে সাংবাদিক ভাইদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ঘায়েল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার আহবান থাকবে কারো কথায় বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।






