নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত

চারিদিকে কঠোর সমালোচনা ও তীব্র প্রতিবাদের পর অবশেষে বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসক তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিষয়টি প্রকাশ করেন। এর আগে গত বুধাবর (২০ আগস্ট) এক বৈঠকের মাধ্যমে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া ৫০ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ বর্ধিত বাসভাড়া কার্যকরও করা হয়।


এরপর থেকেই নাগরিক কমিটিগুলোর নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন থেকে শুরু করে নগরবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।


অতঃপর প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগীত করেছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত গত ২০ আগস্ট বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বর্ধিত ভাড়ার বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো। সেহেতু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে।”


পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে আগে বেসরকারি কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল করলেও বর্তমানে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের শতাধিক বাস চলাচল করে। এ পথে ৪৫ টাকায় নন-এসি বাসগুলোতে যাত্রী পরিবহন করলেও কোভিডের সময়ে বাসভাড়া একলাফে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। পরে তা পাঁচ টাকা কমিয়ে ৫৫ টাকা করা হয়।


গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। তারা আধাবেলা হরতালেরও ঘোষণা দেন। পরে হরতালের একদিন আগে ১৬ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাস-মালিক ও যাত্রী অধিকার ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে বাসভাড়া কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করেন।


এই সিদ্ধান্তের নয় মাসের মাথায় বাসভাড়া পুনরায় বাড়ানো হয়। যদিও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পথে সরকারি পরিবহন বিআরটিসির যেসব বাস চলে সেগুলোর ভাড়া ৪৫ টাকা।


এদিকে, গত বুধবার বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রাজনৈতিক, নাগরিক, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। বৃহস্পতিবার ছাত্র-জনতার ব্যানারে বাসভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি ঘোষণা করে গণসংহতি আন্দোলন ও যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম।


দিনভর ব্যাপক সমালোচনা ও তীব্র বিরোধীতার পর শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসক বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >