পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ও রোববার সকালে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, সম্পত্তির ক্ষতি করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।
নাবলুসের বেইতা, বুরকা, আসিরা আল-কিবলিয়া, উরিফ, আওয়ার্তা, আইনাবুস, বেইত ফুরিক, হাওয়ারা ও কুসরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালায়। এ সময় ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে তল্লাশি এবং বিভিন্ন স্থানে ছবি ও পতাকা সরানোর ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, বসতি স্থাপনকারীরা বেইত ফুরিকের কয়েকটি গ্রিনহাউস ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিলো বসতির কাছে গাড়িতে পাথর ছোড়ে।
হেবরন এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের দাবি, ইসরায়েলি সেনারা ফারশ আল-হাওয়ার প্রবেশপথ বন্ধ করে এবং ইদনা এলাকায় অভিযান চালায়। মাসাফের ইয়াত্তার ওয়াদি আল-রাখিম এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা একটি সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জেনিন ও কালকিলিয়া এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হয়। কালকিলিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহার করে। জাবা শহরে বসতি স্থাপনকারীরা ঢোকার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। জেরিকো, বেথলেহেম ও রামাল্লার আশপাশের এলাকাতেও অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পশ্চিম তীরে ২ হাজার ২৫৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৮টি ঘটনার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১০ জন শিশু। এ সময় ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি।







